বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণাতেই এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ। দলের সূচনা সময়ে মহাসচিব ছিলেন তিনি। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ভালো মানুষ হিসেবে তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করেন জিয়াউর রহমান।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী ১৯৭৯ সালে মুন্সিগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ থেকে ৮২ পর্যন্ত মন্ত্রীও ছিলেন। পরে খালেদা জিয়ার আমলেও মন্ত্রী হয়েছেন, ছিলেন সংসদ উপনেতাও। তবে ২০০১ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি হলেও সরে দাঁড়াতে হয়। নতুন দল ‘বিকল্পধারা’ গঠন করেন তিনি। তবে জিয়ার আদর্শই ধরে রেখেছেন বলে জানালেন বি চৌধুরী।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ঘুরেছেন বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে। জিয়ার নেতৃত্বের কারিশমা তাকে এখনও মুগ্ধতায় আবিষ্ট করে। চ্যানেল আই অনলাইনকে বি. চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন। হাজার হাজার সাধারণ মানুষের সাথে হাত মিলিয়েছেন তিনি, যা পরবর্তী সময় একটি মধুর স্মৃতি হিসেবেই আমৃত্যু লালন করেছেন তারা।
তার দাবি, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কৃষি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিলো। ‘তিনি ছিলেন অসামান্য একজন নেতা’ মন্তব্য করে বি. চৌধুরী বলেন, তার সময়ে ১২শ’র মতো খাল খনন করা হয়েছিলো। যা কৃষিকাজে সেচের জন্য ব্যবহার হতো।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তিনি তার দক্ষ নেতৃত্বসুলভ আচরণ দিয়ে সাধারণ জনগনকে অনুপ্রাণিত করতে পারতেন।
বি. চৌধুরীর দাবি, বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতি ঘটে জিয়ার সময়ে। বাংলাদেশ খাদ্যে ঘাটতি কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। এমনকি ওইসময় এক লাখ টন উদ্বৃত্ত চালও উৎপাদিত হয় বলে দাবি তার। জানালেন, সেসময় এক লাখ টন চিনিও রপ্তানি করেছিলো বাংলাদেশ।
একসময় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতে, জিয়াউর রহমানের সময় গণশিক্ষা ক্ষেত্রেও বিপ্লব সংঘটিত হয়। হাজার হাজার বই ছাপিয়ে দিয়েছিলেন জিয়া।
বি. চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে নিজের স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়া তার দূরদৃষ্টি দিয়ে গার্মেন্টস খাতে এদেশের সাফল্যের সম্ভাবনার কথা বুঝতে পেরেছিলেন। তার আমলেই বাংলাদেশ এই খাতে বিপুল অগ্রগতি অর্জন করে। আজ যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র।
তার দাবি, শিল্প ক্ষেত্রেও বিপ্লব সাধিত হয় জিয়াউর রহমানের সময়ে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তিনি শ্রমিকদের তিন শিফটে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিলেন। বিস্ময়কর ব্যপার হলো যে কারখানার শ্রমিকেরা তার এই আহবান মেনে নিয়েছিলো। তারা দিন রাত কাজ করে এদেশের শিল্পের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছিলো।






