বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। আলোচনার মূল বিষয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা দায়ের। ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ২৭ মে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা মহাসড়ক অবরোধ ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করেছে। এই অভিযোগে মামলা দায়েরের পর শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন এবং অনশনের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা প্রত্যাহার না করায় এবার তারা বড় আন্দোলনে নেমেছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা বুধবার তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখে। এর ফলে কর্মকর্তা, কর্মচারিরা নিজ অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি। বলা যায়, এক প্রকার অচল হয়ে আছে জাহাঙ্গীরনগর। দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে এমন ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। এটা স্বীকার করতে হবে যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেশের অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দূর পাল্লার গাড়িসহ অন্যসব গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে চলাচল করায় এখানকার অনেক শিক্ষার্থীর জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। সর্বশেষ গত ২৭ মে একই ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়কে স্পিডব্রেকার না রাখার ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে আমরা অযৌক্তিক মনে করি না। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর যেমন কাম্য নয়, তেমনি আন্দোলন থামানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, মামলা এবং গণগ্রেফতারও কোন স্থায়ী সমাধান নয়। আমরা মনে করি, মামলা না করেও এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু এরপরও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েকদিনের লাগাতার আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টনক নড়াতে পারছে না কেন? অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন একগুঁয়েমির প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে এসে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে কোন শিক্ষার্থীর যেন আর লাশ হয়ে ফিরতে না হয় এজন্য সড়কে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে নিজেদের অনড় অবস্থান থেকে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিতে সকল পক্ষকে সহনশীল আচরণ করতে আমরা আহ্বান করছি।








