জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী দুটি প্যানেলের মধ্য থেকে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ড.শরীফ এনামুল কবীর ও মোতাহার মোল্লার নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ‘প্রগতিশীল জোট’।
সর্বমোট ২৫টি আসনের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ‘প্রগতিশীল জোট’ ১৮টি আসন লাভ করেছে। একটি মাত্র আসন পেয়েছে আওয়ামীপন্থীদের অপর প্যানেল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল গ্র্যাজুয়েট মঞ্চ’।
অপরদিকে বিএনপিপন্থী গ্র্যাজুয়েটদের ‘জাতীয়তাবাদী প্যানেল’ পেয়েছে ৬টি আসন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৪৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কেউই কোন আসন পাননি।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবন ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের দু’টি কেন্দ্রে সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ৪ হাজার ৩৭৩ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে রোববার ভোর পাঁচটায় নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক ফলাফল ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক বিজয়ী উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবীর ও মোতাহার মোল্লার নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’ এর সকল প্রার্থী ও সমর্থকরা।
এসময় অধ্যাপক ড. শরিফ এনামুল কবীর বলেন: নির্বাচনের আগে আমরা যেসব সংকল্প করেছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করবো। জাকসু নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আমরা তৎপর থাকবো।
জাতীয়তাবাদী প্যানেলের পক্ষে অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, জাকসু নির্বাচনসহ আমাদের দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে আমরা একত্রে কাজ করবো।
আওয়ামীপন্থী দুটি প্যানেল থেকে বিজয়ী যারা
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’ প্যানেলের কেএইচ মাহিদ উদ্দিন ২১৪৪, মো. কায়কোবাদ হোসাইন ১৮৭৩, মো. শরিফ এনামুল কবীর ১৬৮৫, ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর ১৪৫৭, মো. সোহেল পারভেজ ১৪৩৪, আশীষ কুমার মজুমদার ১৪৩২, শামীমা সুলতানা ১৪১১, কৃষ্ণাগায়েন ১৪০২, পৃথ্বিলানাজনীন নীলিমা ১৩৯৬, মহব্বত হোসেন খান ১২৩৮, শেখ মনোয়ার হোসেন ১১৯৪, মো. মোতাহার হোসেন ১১৩১, আবুল কালাম আজাদ ১১১৫, মোহাম্মদ মেহেদী জামিল ১০৮২, মো. এবায়দুল্লাহ তালুকদার ১০৭৭, ইন্দুপ্রভা দাস ৯৯৪, মো. মাসুদুররহমান ৯৮০ এবং মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা ৯৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
আওয়ামীপন্থীদের অপর প্যানেল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল গ্র্যাজুয়েট মঞ্চ’ প্যানেল থেকে সর্বমোট ১০২৭ ভোট পেয়ে একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হলেন মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে বিজয়ীযারা
বিএনপিপন্থী ‘জাতীয়তাবাদী প্যানেল’ থেকে ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান ১৩৪২, শিহাব উদ্দিন খান ১৩০৭, শামীমা সুলতানা ১২০৭, মো. শামসুল আলম ১১৮৪, সাবিনা ইয়াসমিন ১০৩০ এবং ড. মো. নজরুল ইসলাম ১০১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে মোট ২৫টি আসনের বিপরীতে লড়েছেন ১১৯ জন প্রার্থী। এতে আওয়ামীলীগপন্থীরা বিভক্ত হয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল ও গ্র্যাজুয়েটমঞ্চ’ নামে দুটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। অপরদিকে বিএনপিপন্থীরা প্রতিন্দ্বিতা করছে ‘জাতীয়তাবাদী প্যানেল’ থেকে। এছাড়া সর্বমোট ৪৪ জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।







