‘হিমদেশে উষ্ণ হোক প্রাণ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে শীতকে বরণ করে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা ‘হিম উৎসব-২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে শনিবার দিবাগত রাতে।
হিম উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি স্পটে বসেছে উৎসবের নানা আয়োজন। ‘পরম্পরায় আমরা’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে তিন দিনব্যাপী এই হিম উৎসব।
উৎসবের শেষদিন শনিবার ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে দিনব্যাপী চলছে পেইন্টিং ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। পাশাপশি প্রয়াত সংগীত শিল্পী লাকি আখন্দকে উৎসর্গ করে সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করবেন সহজিয়া, চিৎকার, গানপোকা, সিনাহাসান এন্ড বাংলা ফাইভ, লীলা, মেঘদল, চান্দের গাড়ি, জিপসি বেল সংগীত ব্যান্ড।
উৎসবের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে সকাল থেকে চলে দিনব্যাপী পেইন্টিং ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ছায়ানট ও বেঙ্গলের ‘পরম্পরা’র পরিবেশনায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবার জহির রায়হান মিলনায়তন চত্বরে সকাল ৯টায় আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন সন্ধ্যা ৬টায় নড়াইলের শিল্পীদের পরিবেশনায় পটের গান, সন্ধ্যা ৭টায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রযোজনায় অনুষ্ঠিত হয় গম্ভীরা ও ঘাটুগান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহের চত্বরে চলে দিনব্যাপী পেইন্টিং ও আলোকচিত্র প্রর্দশনী।
হিম উৎসবের আয়োজক কমিটির সদস্য নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন: আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়েছি যখন সবকিছুই বাণিজ্যের হাতে বন্দী। তাই সকলের মাঝে সুর, শব্দ, রং আর রসে ভরিয়ে তুলতে আমরা এবারও আয়োজন করেছি শীত বরণীয়া এই ‘হিম উৎসব-২০১৮’।
বাংলার হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে ও শীতকে উৎসবে পরিণত করতে ‘পরম্পরায় আমরা’ এই ব্যানারে কাজ করছে ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষার্থী।
২০১৫ থেকে ধারাবাহিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত বছরে ডিসেম্বরেও ‘কুয়াশা রং মাখি হিমদেশ উঠানে’ স্লোগানে ৩ দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প, বাউল গান, কাওয়ালি গান, পালাগান, চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।







