মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কয়েকজন গুণী শিল্পী এবং দেশবরেণ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা জানাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আয়োজনে ‘মুক্তিসংগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৮’এ তাদের হাতে এ সম্মাননা (স্মারক) তুলে দেয়া হবে। এ আয়োজন চলবে ২৫ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত।
২৫ মার্চ বিকাল ৪টায় ‘মুক্তির আলোয় আলোকিত করি ভুবন’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
উপস্থিত থাকবেন সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী; স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ডা. অরুপ রতন চৌধুরী, তিমির নন্দী, রবীন্দ্রনাথ রায় প্রমুখ।
একই দিন সকাল ১০টায় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে চিত্রকর্ম ও স্মারক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। সবশেষে সন্ধ্যা ৭টায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের পরিবেশনায় মঞ্চায়ন হবে তারিক আনাম খানের নাটক ‘জেরা’।
উৎসবের অন্যান্য দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনব্যাপী থাকবে আলোচনা সভা, সকলের সম্মিলনে বৃহত্তম মানব পতাকা নির্মাণ, একযোগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান, মঞ্চনাটক, জাগরনের গান ও আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা এবং মুক্তিযুদ্ধের ছবি অঙ্কন ও চিত্র প্রদর্শনী।
উৎসবের অন্যদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ এমপি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে সাংস্কৃতিক উৎসবে উপস্থিত থাকবেন মুজিবনগর সরকারের গার্ড অব অনারে নেতৃত্ব দানকারী এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সুরকার সুজেয় শ্যাম, রবীন্দ্রনাথ রায়, অভিনয় শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম, নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, এবং লেখক পান্না কায়সার এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচাল এবাদুল করিম বুলবুল।
চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ও বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।
আযোজন সম্পর্কে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আহ্বায়ক অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘সুস্থ সংস্কৃতির বিস্তার ও চর্চাই একটি সহনশীল, উদার ও মানবিক পৃথিবী নির্মাণ করতে পারে। সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে চায় দেশের বৃহত্তর পরিসরে। এই লক্ষ্যে দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যায় চার দিনব্যাপী মুক্তিসংগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করেছে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও আপামর জনসাধারনকে উজ্জীবিত করেছিল। শিল্পীরা সেদিন কণ্ঠ দিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পথকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। সেই সব মুক্তিযোদ্ধা শিল্পীদের মধ্যে যারা জীবিত রয়েছেন তাদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক উৎসবে সম্মাননা প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতিদান এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে গত বছর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করে আসছে মুক্তিসংগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসবের।







