দেশের প্রগতিশীল কন্ঠস্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার বিচার না হওয়া কিংবা বিচার করতে না পারাটাই অনেকাংশে নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে এই অনিয়মের মধ্যেও স্বস্তির খবর হলো- সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হওয়া শিক্ষক এবং জনপ্রিয় লেখক ড. জাফর ইকবালের হামলাকারী ফয়জুরকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট মোবাইল ফোন এবং ট্যাবসহ গাজীপুর থেকে তার ভাইকে আটক করেছে। ঘটনার রাতেই তারা মামা এবং চাচাকেও আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমরা এসব পদক্ষেপের কারণে ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে রিমান্ডে থাকা হামলাকারীর কাছ থেকে জাফর ইকবালের ওপর হামলার মূল হোতাদের তথ্য বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্যোগী হতে হবে। আমরা মনে করি, জাফর ইকবালসহ প্রগতিশীল কণ্ঠগুলো স্তব্ধ করতে ফয়জুরদের চেয়েও বড় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি জড়িত। আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় দেখতে চাই। এসব হামলার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে আমাদের আরও এমন ভয়াবহ হামলা দেখতে হতে পারে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে এভাবেই একের পর এক হামলার মাধ্যমে পরাজয়ের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, যা কখনোই হতে দেওয়া যাবে না। এই জঙ্গি হামলার ঘটনা দুঃখজনক হলেও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে হাতেনাতে ধরতে পেরেছে তা আশার বিষয়। তারুণ্যের শক্তিতে এ কারণেই আমরা আশাবাদী। প্রতিটি অন্যায়ের ঘটনায় তারুণ্য এভাবে জেগে উঠলে কোনো অপরাধী পার পেতে পারবে না বলে আমরা মনে করি। একইসঙ্গে এ হামলার পর থেকেই জাফর ইকবালের উন্নত চিকিৎসা থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা প্রশংসনীয়।







