আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সাউথ আফ্রিকান তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স। ‘ক্লান্তির’ কথা বলে বুধবার আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন প্রোটিয়া সুপারস্টার।
জাতীয় দলের হয়ে ১১৪টি টেস্ট, ২২৮টি ওয়ানডে এবং ৭৮ টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এবি। টেস্ট ও ওয়ানডের দুই ফরম্যাটেই ৫০’র উপরে তার ব্যাটিং গড়।
অবসর বার্তায় প্রোটিয়া ড্যাশিং ব্যাটসম্যান বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকেই আমি সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর অন্যদের সময় এসেছে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার। আমি আমার কাজটা করেছি, সত্যি কথা বলতে আমি ক্লান্ত।’
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ৯৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার দিয়েছেন এবি। সেখানে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। আমি অনেক দীর্ঘ সময় নিয়ে এ নিয়ে ভেবেছি এবং ভালো ফর্মে থাকা অবস্থাতেই বিদায় নিতে চাচ্ছি। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি সিরিজ জয়ের পর, আমার মনে হচ্ছে সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।’
ক্লান্ত এবি চাইলে তিন ফরম্যাটের যেকোনো একটি বা দুটি ফরম্যাটে খেলতে পারতেন। কিন্তু বেছে খেলার মতো পাত্র নন তিনি, ‘সাউথ আফ্রিকার হয়ে নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাট বেছে নেয়া কিংবা বেছে বেছে নির্দিষ্ট কোনো সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হতো না। যদি সবুজ-সোনালির হয়ে খেলতেই হয়, তবে সব খেলব, নয় তো একদম কিছু না। এত বছর ধরে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সাউথ আফ্রিকান বোর্ডের কোচ ও স্টাফদের কাছে কৃতজ্ঞ। ক্যারিয়ারজুড়ে যত সতীর্থ পেয়েছি, তাদের সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ। এতগুলো বছর যে সমর্থন পেয়েছি, সেটা না থাকলে আমি অর্ধেক (বর্তমান পর্যায়ের) ক্রিকেটারও হতে পারতাম না।’
‘এটা অন্য কোথাও অর্থ উপার্জনের বিষয় নয়, এটা হলো ক্লান্তির ব্যাপার। এ ছাড়া আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময় সরে যাওয়ার। সবকিছুই একসময় না একসময় শেষ হয়। সাউথ আফ্রিকা ও বিশ্বের সব ক্রিকেট ভক্তদের বলছি, আপনাদের দয়া ও ঔদার্যের জন্য ধন্যবাদ। আর আজ আমার ব্যাপারটা বোঝার জন্য ধন্যবাদ। আমার দেশের বাইরে খেলার কোনো ইচ্ছা নেই। সত্য হলো, আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটানসের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চাই। ফাফ ডু প্লেসি ও প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়েই থাকব আমি,’-যোগ করেন ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক।
২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক এবির। পরের বছর ওয়ানডে অভিষেকটাও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। ৫০.৬৬ গড়ে টেস্টে রান করেছেন ৮৭৬৫। ২২ সেঞ্চুরির সঙ্গে হাফসেঞ্চুরি ৪৬টি। ওয়ানডেতে রান করেছেন ৯৫৭৭। গড় ৫৩.৫০। সেঞ্চুরির ২৫, হাফসেঞ্চুরি ৫৩টি। ৭৮ টি-টুয়েন্টিতে ১০টি হাফসেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ১৬৭২।








