দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে বাংলাদেশী জঙ্গি তরুেণর খোঁজ এখন মামুলি বিষয়। আত্মঘাতী জঙ্গি হয়ে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে দাবী আদায়, গুপ্তহত্যা, স্থাপনা ধ্বংস করা, আইএস এ যোগ দিতে দেশ ত্যাগ, প্রভৃতি ভয়ংকর সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত হচ্ছে তরুণ তরুণীরা।
তরুনীরা আইএস জঙ্গিদের যৌনদাসী হতেও দেশ ত্যাগ করে আইএস জঙ্গিদের সাথে হাত মেলাচ্ছে। সন্তান জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে মা-বাবা টেরও পায় না। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় জড়িত নিহত জঙ্গিদের পিতৃ পরিচয়ে জানা যায় কেউ কেউ জঙ্গিবাদ বিরোধী পিতামাতার সন্তান। খোদ সরকার দল আওয়ামী লীগ নেতাও জানেনা যে তারই সন্তান তারই খেয়ে পরে ও তারই ঘরে বসবাস করে ভয়ংকর সশস্ত্র জঙ্গি হয়ে উঠেছে
জঙ্গিবাদে উস্কানির অভিযোগে জাকির নায়েকের পিস টিভি ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হল।বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জাকির নায়েকের লেখা বই তরুণরা নিজের টাকায় কেনে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। তার সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদ নামের পুস্তিকাটি দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলার বইয়ের দোকানে শোভা পেত। আর এক শ্রেণীর তরুন তা কিনে নিয়ে মানুষকে পড়তে দিত।
বইটির বাংলা অনুবাদ করে বাংলাদেশে বাজারজাত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এম হাসানুজ্জামান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সফিউল্লাহ (সফি)। প্রকাশনায় পিস পাবলিকেসন্স, ঢাকা। ঠিকানা:৩৮/৩,কম্পিউটার মার্কেট,বাংলা বাজার, ঢাকা। বইটির প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম, সম্পাদক কারেন্ট নিউজ ও পরিবেশনায় আধূনিক প্রকাশনী, ২৫ শিরিশ দাস লেন,বাংলা বাজার, ঢাকা-১১০০। প্রকাশকাল :মে ২০০৮,সংস্করণ এপ্রিল ২০০৯।
এই বইটিতে মূর্তি ভাঙ্গার পক্ষে সাফাই, ধর্মের সমালোচনাকারীদের পাথর ছুঁড়ে হত্যার উস্কানি, পর্দা প্রথার পর্দার পক্ষে সাফাই, ওসামা বিন লাদেনের পক্ষে সাফাই, আইন হাতে নিয়ে হত্যার উস্কানি, অপরাধ করে বিদেশে আশ্রয় গ্রহনকারীকে ফেরত দানের বিরোধিতা, ইসলামী সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ার পক্ষে সাফাই ও পরধর্ম বিদ্বেষ সহ নানা কথা আছে।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাথে ওইসব সন্ত্রাসীদের তুলনা দিয়েছেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদ গ্রন্থের, ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ’ অধ্যায়ে ডা.জাকির নায়েক বলেছেন, মুসলিম মৌলবাদী হিসেবে আমি গর্বিত। এই অধ্যায়ে তিনি আরও বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানকে সন্ত্রাসী হতে হবে। একজন সন্ত্রাসী এমন একজন ব্যক্তি যে মানুষের মাঝে অপকর্ম করে বেড়ায় ও সে সমাজে ভীতি ছড়ায়।
ইসলাম নামধারী সন্ত্রাসবাদীদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে জাকির নায়েক বলেন, ভারত বর্ষ ব্রিটিশ থেকে স্বাধীন হওয়ার আগে কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা স্বাধীনতার জন্য সহিংস আন্দোলন করেছে ব্রিটিশ সরকার তাদেরকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছে; ভারত বর্ষের মানুষ তাদেরকে সে একই কাজের জন্য দেশপ্রেমিক বলে আখ্যায়িত করেছে। সুতরাং দেখা গেল একই কাজের জন্য একই ধরনের মানুষকে দুটি ভিন্ন গ্রুপ ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেছে।
এক শ্রেনী বলেছে, সন্ত্রাসবাদ অন্য শ্রেনী বলেছে দেশপ্রেম। ঐসব লোক যারা বিশ্বাস করে ভারতের উপর ব্রিটিশদের শাসন করার অধিকার রয়েছে তারা বলল এটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। অন্যদিকে যারা বিশ্বাস করে ভারতবর্ষ শাসন করার কোন অধিকার ব্রিটিশদের নেই তারা তাদের কার্যকলাপকে মুক্তিযুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং তাদেরকে দেশপ্রেমিক হিসেবে বরণ করেছে।’
দেশ জুড়ে জাকির নায়েকের পুস্তিকা পঠনের নেটওয়ার্ক চালু ছিল। ভারত সরকার জাকির নায়েকের পিস টিভি বন্ধের পরে কেন হুঁশ ফিরে এল? বাংলাদেশে পিস পাবলিকেশন্স কারা প্রতিষ্ঠা করল? এই প্রকাশনীটির ব্যাপারে বাংলা একাডেমির ব্যাখ্যা কী। লাখ লাখ কপি বাংলাদেশে বিতরণ করা হয়েছে মৌলবাদী জঙ্গি প্রজন্ম সৃষ্টির জন্য। সমস্যা সৃষ্টির উৎসে মনোযোগ না দিয়ে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করার পরে কেন হুঁশ ফিরে পাওয়া? নামে বেনামে ইসলামের নামে কত কি সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয় দেশে। মৌলবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো থাকে নির্বিকার ভূমিকায়। ধর্মের দাওয়াতের ছলে প্রজন্মকে শেখানো হয় পরধর্ম বিদ্বেষ। নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে যেয়ে অন্যধর্মাবলম্বীদের প্রতি সৃষ্টি করা হয় তুচ্ছতার মনোভাব।
জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা হয় আবার জামায়াত নেতাদের নিজ দলে ঢোকানো হয়। পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে ১৭২ জন জামায়াতের রোকন আওয়ামী লীগের টিকেটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। কেন এই স্ববিরোধিতা? কেন এই শত্রুবান্ধব হতে উদগ্রীবতা? বাংলা একাডেমি প্রগতিবাদী প্রকাশনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কিন্তু জঙ্গিবাদ ছড়ানো প্রকাশনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না, কেন?
স্বরাষ্টমন্ত্রীর ছেলে ফেসবুকে নাস্তিকতার অভিযোগ করে এক যুবকের ফাঁসি দাবী করে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার বোন ও ভগ্নিপতিকে শীর্ষ জঙ্গি হতেও দেখেছে মানুষ। বক্তৃতায় জামায়াত জঙ্গি বিরোধী উদাত্ত কন্ঠ আবার ডাইনিং টেবিলে জামায়াত নেতাকে নিয়ে ভূঁড়িভোজ।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ এমপির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। কেন এই লোকটা ছাড়া কি অন্য কাউকে নমিশন দেয়ার মত কেউ ছিলেন না? ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখের দৈনিক সংবাদে রিপোর্ট হয়, অভয় নগর থানার ওসির মুখোশ খুলে গেছে। এতে লেখা হয় তিনি রাজাকারের সন্তান। যশোরের ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপর হামলা করে চরম গণবিরোধী ভূমিকায় নেমেছিলেন এই ওসি।
শুধু কি এই একজন ওসির মুখোশ খুললে হবে? আরও কত শত ওসি ঘাপটি মেরে আছে? ঘাপটি মেরে আছে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে। নৌকা প্রতীক নিয়ে রাজাকার পুত্রের মনোনয়ন পাওয়ার কত খবর বেরিয়েছে পত্রিকায়। কিন্ত এসবের কি কোন প্রতিকার হল? নাসির নগরে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।অভিযোগ ওঠে এখানকার মন্ত্রী কর্তৃক রাজাকার পুত্রকে নমিনেশন প্রদানের ঘটনা। কি প্রতিকার হল এই অভিযোগের?
সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা মৌলবাদ চর্চারই ফল। এই বিষবৃক্ষ বীজ হয়ে রোপিত হয়ে চারা হিসেবে পুষ্ট হয়ে উঠছে। কোনটা বিষবৃক্ষ কোনটা বিষবৃক্ষ না তা চেনাই কঠিন হয়ে উঠছে। এক সময় আমরা কমিউনিষ্টদের দেখেছি অন্য দলে ঢুকে সে দলকে দূর্বল করে কমিউনিজমের শক্তি ভিত বাড়ানোর চেষ্টা করতে। সেটাকে বলা হতো বিলোপ বাদ।বাইরে আওয়ামী ছাত্রলীগের নেতা আর ভেতরে সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টির ক্যাডার এমন ঘটনাও ছিল।
আওয়ামী ও ছাত্রলীগের নেতা গ্রেফতার হয় সর্বহারা পার্টির সশস্ত্র ক্যাডার হয়ে সশস্ত্র কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে।বিভিন্ন মাধ্যমে মৌলবাদ চর্চা বর্তমান বাস্তবতাকে সেদিকেই নিয়ে গেছে। জামায়াত শত্রু জামায়াতের নেতা কর্মী শত্রু নয়, এই বুঝি অবস্থা! এ যেনো গাছের গোড়ার রস খাবো না সেটা বিষাক্ত কিন্তু ডালের রস খাব সেটা মিষ্ট।
একসময়ের সরকার দল বিএনপি ও জামায়াত ক্ষমতা হারা হয়ে এখন না সরকার দল ও না বিরোধী দল। ঘরোয়া আলোচনার বাইরে তাদের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড চোখে পড়ে না। তাদের দাবী ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। আগামী নির্বাচন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হচ্ছে না সেটা নিশ্চিত। শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই তারা নির্বাচনে যাচ্ছে। না গেলে তারা বিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন হারাবে ।রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি খুবই দূর্বল প্রতিপক্ষ। সরকারের জন্য তারা হুমকি নন। হুমকি হলো মৌলবাদ চর্চার কুফল। মিত্রের বেশে শত্রুরা দল, প্রশাসন ও পরিবারে বিভিন্ন বেশে বিরাজ করছে।
২৯ জানুয়ারী চ্যানেল আইয়ে খবর বের হয়,গণউন্নয়ন একাডেমিতে আগুন: মাটিতে বসে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধায়। এগুলো নতুন নয় নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা মাত্র। এর শেষ পরিণতি কী? বলবে ভবিষ্যৎ।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








