যাদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ড, মুক্তিযুদ্ধের পর সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের পরিবারও হয়রানির শিকার হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় রাষ্ট্রের দেওয়া মাথা গোঁজার ঠাঁই থেকেও অনেককে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তাদেরই একজন চলচ্চিত্রকার, উপন্যাসিক ও লেখক জহির রায়হান। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন এবং ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আরেক ফাল্গুন তার কালজয়ী উপন্যাস। ‘জীবন থেকে নেওয়া’ তার চলচ্চিত্র মুুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ইতিহাসের অংশ।
স্বাধীনতার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের ১ বাই ১৯ নম্বর বাসাটি জহির রায়হানের স্ত্রী সুমিতা দেবীসহ পরিবারকে বরাদ্দ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জহির রায়হানের অপর স্ত্রী কহিনূর সুচন্দাকে বঙ্গবন্ধু বনানীর একটি বাসা বরাদ্দ দেন। তবে ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরই জহির রায়হানের পরিবারের হয়রানি-নির্যাতন শুরু হয়।
জিয়াউর আমলের পর একনায়ক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় এলে আবারও জহির রায়হানের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। সবশেষ ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৬ সালে জহির রায়হানের পরিবারকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকেও চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদ করা হয়।
এ ঘটনা জানার পর আড়াই বছর আগে জহির রায়হানের পরিবারকে থাকার জায়গা বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এখনো সে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।
জহির রায়হান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ৭১ এ কলকাতায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থেকে পাওয়া অর্থ দান করেন মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রাস্টে। তার বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে পাকিস্তানি মিলিটারি ধরে নিয়ে গেলে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ভাইকে খুঁজতে বের হয়ে আর ফেরেননি জহির রায়হান।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:








