প্যারিসে ২১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের শেষ দিনেও আলোচনা শেষ হয়নি, তাই সম্মেলনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরো একদিন। সম্মেলন থেক একটি চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। প্যারিসের খসড়া নিয়ে আগামী বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
প্যারিসের এই জলবায়ু সম্মেলনে গত ১০ দিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত আলোচনা চলছিলো। কিন্ত গতকাল থেকে আলোচনা চলেছে ভোররাত পর্যন্ত এবং শেষপর্যন্ত চীন,ভারত ও ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং স্বল্প উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চরম বাদানুবাদ চলেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে চুক্তি না হলেও চুক্তির খসড়া এখান থেকেই চূড়ান্ত হবে। সেই খসড়ায় অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কার্বন নিসরণ কমানোর বিষয়গুলো লেখা হচ্ছে।
দেশের জলবায়ু ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ১৯৯২ সালে একটা আইন হয়েছে, ৯৭ সালে একটা আইন হয়েছে আর ‘কিওটো চুক্তি’ ঠিক সেরকম একটা আইনের পর্যায়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বগুলো মেনে নিয়েছে। তারা এখন থেকে কাজ করবে, যাতে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রীর অনেক নিচে নামিয়ে আনা যায়। সেটা আস্তে আস্তে কমিয়ে দেড় ডিগ্রীতে নিয়ে আসা হবে।
তবে, এখন পর্যন্ত চুক্তির খসড়া যে সব বিষয়ে লেখা হয়েছে তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন যে প্রত্যাশা নিয়ে তারা প্যারিসে এসেছিলেন, সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না।
ইমপ্রেস গ্রুপের অন্যতম সফল পরিচালক এবং প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো। ব্যাপারটি যেহেতু জটিল, খুব সহজে সমাধান হবে তার উপায় নেই। সুতরাং একটু একটু করেই এগিয়ে যাচ্ছে, কিছু কিছু পাচ্ছি। অনেক কিছু না পেলেও এই পাওয়া নিয়ে খুশি।
তিনি আরো বলেন, পজিটিভ বার্তা নিয়েই এ কপ-২১ শেষ হচ্ছে। সেটাই আমি মনে করি।
একদিন সময় বাড়ানোর কারণে আগামীকাল শনিবার রাত পর্যন্ত এ আলোচনা চলবে। এরপরই চুক্তি চূড়ান্ত হবে।







