জলবায়ু যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে বিপন্নের মুখে পৃথিবী। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে এ গ্রহকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে। বহুদিন ধরেই গবেষকরা এমন কথা বোঝানোর চেষ্টা করছেন। অন্যসব বিভাগের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা লাগছে ক্রীড়াঙ্গনেও। বিশেষ করে ক্রিকেটে। তাইতো খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল।
অজি সাবেক তারকা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তিত, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটের সঙ্গে অবশ্য টি-টুয়েন্টিকেও চ্যালেঞ্জ মনে করছেন তিনি।
বৃষ্টি বিঘ্ন ঘটানোর পরও অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যকার সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজ ভালোভাবে হলেও টেস্ট ক্রিকেট সামনে সিরিয়াস চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলেই ধারণা চ্যাপেলের। ইএসপিএন-ক্রিকইফোতে লেখা এক কলামে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
চ্যাপেলের মতে, প্রশাসকরা যারা খেলাধুলা পরিচালনা করছেন, তাদের অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অজি গ্রেটের কথায়, ‘খেলাটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একটি বড় উদ্বেগ এবং এর সমাধান বিশ্ব রাজনীতিবিদদের নেয়া পদক্ষেপের উপর নির্ভর করছে।’
সম্প্রতি বৃষ্টিতে ক্রিকেট ম্যাচ ভেসে যাওয়ার সংখ্যা অনেকবেশি বেড়েছে। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিত সবশেষ বিশ্বকাপে যেটা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। বিশ্বকাপে প্রায় আধাডজন ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ভেসে যাওয়া বা দেরি করে শুরু হওয়ার সঙ্গে রৌদ্র-বৃষ্টির মাঝের আবহাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছে সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চ্যাপেল।
‘তাপমাত্রার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ বাড়িয়ে তুলবে। বৃষ্টির ফলে দেরিতে খেলা শুরু হওয়াটা খুবই হতাশার। তবে এটা ভাবুন যে, যদি অতি তাপমাত্রার কারণে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাহলে কেমন লাগবে?’
‘তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এটাই বাস্তবতা। খেলোয়াড়দের হিটস্ট্রোক বা আরও দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের ক্যান্সার ক্ষতি থেকে রক্ষা করা দরকার। দুনিয়ার এক অস্থির যুগে ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে সতর্কতার সাথে এগিয়ে চলতে হবে।’
চ্যাপেল বলছেন, টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য ডে-নাইট ম্যাচ আরও বেশি করে খেলতে হবে, ‘টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য ডে-নাইট ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চ্যাপেল। যার ফলে সামনের দিনে আরও বেশি টর্নেডো ও সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। তেমনটা হলে উপকূলীয় ক্রিকেট ভেন্যুগুলো ঝুঁকিতে পড়বে।
উদাহরণ হিসেবে কেপটাউনের মতো উপকূলীয় ভেন্যুর কথা উল্লেখ করেছেন চ্যাপেল, ‘অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ক্ষতিকারক প্রভাব ইতিমধ্যে টেস্ট ম্যাচের একটি অন্যতম শহর কেপটাউনে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা নিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রশ্ন তুলেছিলেন ১৬ বছরের কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ। সেটা টুইট করেছিলেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা। নিজের লেখায় সেটাও তুলে ধরেছেন চ্যাপেল।








