জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানোর এমন কোনো কর্মসূচিতে বাংলাদেশ অংশ নেবে না যাতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো এবং দারিদ্র্যের হার কমানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বাংলাদেশ জলবায়ু কূটনীতি দিবসের আলোচনায় এ অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে পাশে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাইরে এখন আর প্রায় কোনো দেশই নেই। ঝুঁকি কমাতে বেশি দায়ী, কম দায়ী সব দেশকেই আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে প্যারিসে ২১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে নতুন চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ব্যাপারে চীন, ভারত, ব্রাজিল ও সাউথ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর অনীহার কারণে চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সহায়তা চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
জলবায়ু কূটনীতি দিবসের আলোচনায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট জানান, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোকে সাথে নিয়ে তারা জলবায়ু ঝুঁকি নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন।
‘আমরা কম উন্নত, উন্নয়নশীল এবং শিল্পোন্নত দেশগুলোর বিরোধিতা করছি না,’ মন্তব্য করে ইউরোপীয় ইউনয়নের হেড অব ডেলিগেশন পিয়ারে মায়াদো বলেন, আমি মনে করি আমাদের সবার একসাথে কাজ করা উচিত।
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তেমন দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ঝুঁকি কমানোর জন্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে ছাড় না দেয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ব্যাপারে প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহবান জানিয়ে পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ বলেন, এক নম্বর শর্ত হচ্ছে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার কমতে পারবে না। প্রবৃদ্ধি কমলে তো আমাদের উন্নতি হবে না। দ্বিতীয় হচ্ছে দারিদ্র বিমোচনের হার কমতে পারবে না। তৃতীয় হচ্ছে আমাদেরকে প্রযুক্তি দিতে হবে।
কাজী খলীকুজ্জামান আরো বলেন, আমাদেরকে অর্থায়ন করতে হবে। আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে হবে। এই বিষয়গুলো যদি নিষ্পত্তি হয় তাহলে আমরা এই পথে যেতে পারি।
খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যে সামান্য অর্থ পেয়েছে তার বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া। এখনো প্রযুক্তি সহায়তার অর্থ মেলেনি।
গ্রিন ফান্ড ও জলবায়ু ফান্ডের আরো বেশি অর্থ ও সহায়তা পেতে জলবায়ু কূটনীতি জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়ে আলোচনা থেকে।
কূটনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়ে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, কোপ ২১ থেকে পাওয়ার ব্যাপারে আমরা যা আশা করছি তার কতোটুকু পূরণ হবে যদি আমাদের কূটনীতি জোরদার না হয়! কোপ ২১’এ জোরালো ভূমিকার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা যেনো আক্রান্ত না হই সেজন্যই আন্তর্জতিক বিশ্বের কাছে আমাদের বক্তব্য উপস্তাপন করছি।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর খাপ খাইয়ে নেয়া বিষয়ে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা।







