প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশের জলবায়ু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি নতুন আইনী কাঠামোতে অন্তর্ভূক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন এ আইনী কাঠামোর খসড়া শনিবারই জলবায়ু সম্মেলন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেয়া হবে। সম্মেলনের প্রথম সপ্তাহ শেষ হলেও এখনো আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত ৩০ নভেম্বর সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব নেতাদের বক্তব্যে যতটা ইতিবাচক সুর ছিরো ততটা আশাব্যঞ্জক নয় উন্নত দেশের প্রতিনিধিদের সাথে দর কাষাকষিতে। আইনী সহায়তা, অর্থ সাহায্য এবং ক্ষয়-ক্ষতির জন্যক্ষতিপূরণ সেই সাথে জলবায়ু উদ্বাস্তু নিয়ে এখনো তেমন অগ্রগতি হয় নাই।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) রইচ উল আলম মন্ডল বলেন, জিসিএফ বা গ্রোবাল ফাণ্ড বলে পরিচিত যেটা; সেটার অর্থের বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশের চারভাগের একভাগ মানুষের উদ্বাস্তু হওয়ার আশাঙ্কায় প্যারিসের চুক্তিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. মনজুরুল হান্নান খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুতারাং বাংলাদেশের পক্ষে জলবায়ু উদ্বাস্তুর বিষয়টিকে কপ-২১ এর সিদ্ধান্তের মধ্যে রাখার মধ্যে সব রকমের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যদি কোনো কারণে এই সিদ্ধান্তের ভিতরে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবনাটি না থাকে তবে বাংলাদেশ এই বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করবে।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, এবার কপ-২১ এ প্যারিসে বাংলাদেশ নানা দাবির সাথে একটি দাবি খুব জোরালোভাবে তুলে ধরেছে সেটা হলো, ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ এ বিষয় নিয়ে। এখানে বাংলাদেশ চাচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য যে ফাণ্ড তৈরি করেছে সেখান থেকে যেন বাংলাদেশও তাদের ইন্সুরেন্সের জন্য ফাণ্ড পায়। সেটাই দাবি করেছে বাংলাদেশ।
২০ সাল পর্যন্ত অর্থায়ন কি হবে এবং ২০ সালের পর থেকে একশ বিলিয়ন ডলার উন্নত দেশগুলোর দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি কোন দেশ কিভাবে কতটা দেবে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডক্টর মিজান আর খান বলেন, উন্নতদেশগুলো প্রতিজ্ঞা ছিলো ২০ সালের মধ্যে একশ বিলিয়ন ডলার দেবে কিন্ত এখন পর্যন্ত সে রকম কোন রোড ম্যাপ এখনো নেই। কিভাবে এই অর্থের ব্যবহার হবে সে ব্যাপারে কোন ঐক্যমত এখনো আসেনি।
৫ ডিসেম্বর এডিপির মেয়োদ শেষ হওয়ায় এখনো আইনী কাঠামোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় জোরালো দর কষাকষি হবে আগামী সপ্তাহ জুড়ে।







