সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-ইপিআই এর অধীনে এপ্রিল থেকে ‘জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ‘এইচপিভি’ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে গাজীপুরের সাড়ে ৩৩ হাজার মেয়ে শিশু এ টিকা পাবে। দশ থেকে এগারো বছরের মাঝের যাদের বয়স তাদের মাঝে স্কুলভিক্তিক এ কার্যক্রম চালাবে ‘ইপিআই’।
স্পেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ইন্সটিটিউট অব ক্যাটালিয়া অনকোলজির’ পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় বারো হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হচ্ছে সাত হাজার জনের।
চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা নিলে এ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
‘হিউম্যান প্যাপিলোমা’ ভাইরাসের কারণেই মূলত ৩৫ থেকে ৫৫ বছরের নারীরা জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। সরকারিভাবে তাই মেয়ে শিশুদের সুরক্ষা দিতে ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভ্যাকসিন-‘এইচপিভি’ টিকা দেয়ার উদ্যোগ।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ‘গাজীপুরে ৩৩ হাজার পাঁচ’শ জন মেয়ে রয়েছে যাদের বয়স ১১ বছর হয়নি তাদের জন্য দুই ডোজ এইচপিভি ভ্যাকসিন চালু করব।’
চিকিৎসকদের মতে, নয় থেকে তের বছর বয়সীদের এ টিকা দেয়া উচিত। তবে দশ বছরের উপরে আর এগারো বছরের নিচের মেয়ে শিশুদের ‘এইচপিভি’ টিকা দিলে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা অনেক বেশি।
ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার রেহানা পারভীন বলেন, ‘নয় থেকে শুরু করলে ভালো এই জন্য আমরা এখানে দশের মধ্যে রেখেছি এবং খুব ভালো একটা সময় বেছে নেওয়া হয়েছে।’
‘এই সময়টা নির্ধারণ করে যে ভ্যাকসিনটা দেওয়া হয় তাহলে তার শরীরে প্রতিরোধ তৈরি হয়ে যাবে এর ফলে পরবর্তিতে সে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হয়ে আক্রান্ত হলেও তা কোনো ক্ষতির কারণ হবে না। কাজেই ঝুঁকির বিষয়টা অনেক কমে যাবে।’
ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী চিকিৎসক ডাক্তর হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, একজন মহিলার বিবাহিত জীবন বা শারীরিক সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগেই এই ভ্যাকসিন দিতে হবে।
ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের গাইকোলজিক অনকোলজি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার ফৌজিয়া সোবহান বলেন, ‘জরাযু ক্যান্সারে মূলত ঝুঁকির মধ্যে থাকেন যাদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায় এবং ঘন ঘন বাচ্চা হয়।’
‘দ্য ভ্যাকসিন এ্যালায়েন্স’ এর কাছ থেকে পাওয়া ‘এইচপিভি’ টিকা ২০১৮ সাল থেকে সারা দেশের মেয়ে শিশুরা বিনামূল্যে পাবে। ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-‘ইপিআই’ মূলত স্কুলগুলোতে এ কর্মসূচি চালাবে।







