‘আমার যে জমি ছিলো তা এখন বেদখল হয়ে গেছে। ওই জমির কাগজ অামাদের হাতে আছে; কিন্ত চাষাবাদ করতে পারি না। সরকারের কোষাগারে ওই জমির জন্য খাজনা দিতে গেলেও খাজনা নেওয়া হয় না।’ কথাগুলো বলছিলেন, শেরপুরের আদিবাসী নারী কৃষক মায়াবতি কোচ।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খাদ্য নিরাপত্তায় নারী কৃষকদের অবদানের স্বীকৃতি ও অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় প্রচারাভিযান’ শীর্ষক সাংবাদিকদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় নিজের সংগ্রাম সাফল্য ও সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মায়াবতি।
এ কর্মশালায় খাদ্য নিরাপত্তায় নারীর অবদান, নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা, জাতীয় অর্থনীতিতে নারী কৃষকদের অবদানের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আরো দৃশ্যমান করার জন্য প্রয়োজনী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।
নারী কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় প্রচারাভিযানের প্রেক্ষাপট ও এর আওতায় পরিচালিত কর্মকান্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অক্সফামের কমিউনেকশন ম্যানেজার মনীষা বিশ্বাস।
কৃষি, নারী ও গণমাধ্যম কর্মীদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন ডেইলি স্টারের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রিয়াজ আহমদ, বাংলানিউজের হেড অব নিউজ মাহমুদ মেনন খান এবং ইন্ডিপেডেন্ট পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর মানস আলী।
এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনটি দলে ভাগ করে দলীয় আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় যেভাবে মিডিয়াগুলোতে নারীর বিষয়ে খবর প্রচারিত হয়; সে সর্ম্পকে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনটি দলে ভাগ করে মতামত নেওয়া হয়।
প্রথম দলের বক্তব্য , নারীদের উন্নয়নের খবর বাদ দিয়ে সাধারণত তার প্রতি সহিংসতার খবর প্রচার করা করা হয়। দ্বিতীয় দলের অভিমত, নারীদের কৃষিক্ষেত্রে অবদানের খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হয় না। তৃতীয় দলটির মন্তব্য, নারী সংক্রান্ত সংবাদকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। পাশাপাশি মিডিয়া হাউজগুলো ‘সংবাদ প্রচারের জন্য অর্থ খরচ হয়; এমন মানসিকতা দেখিয়ে সেসব সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত রাখা হয়।
এ কর্মশালা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন; চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক ও সমষ্টির পরিচালক মীর মাসরুর জামান, সমষ্টির পরিচালক মীর সাহিদুল আলম এবং গবেষণা ও যোগাযোগ পরিচালক রেজাউল হক।
২০১১ সাল থেকে খাদ্য অধিকার, জলবায়ু অভিযোজন ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতার দাবিতে অক্সফামের বৈশ্বিক প্রচারাভিযান ‘গ্রো’ পরিচালিত হচ্ছে। গ্রো-এর আওতায় নারী কৃষকদের নিয়ে প্রচারাভিযানটি চলছে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফামের সহায়তায় গণমাধ্যম বিষয়ক সংস্থা সমষ্টি এটির আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইনের ২২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।






