মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের বিজয়ের ৪৫ বছর পূর্ণ হয়ে ৪৬ বছরে পা রাখতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে উন্নয়ন ও গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ গোলাম নবী আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন-ব্যর্থতা ও করণীয় বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখছেন চ্যানেল আই অনলাইন পাঠকদের জন্য। পর্ব-১০
বিষফোড়ার যন্ত্রণা যেমন মানুষকে দিনেরাতে ঘুমাতে দেয় না, কাজ কর্মে বাধা তৈরি করে, বাংলাদেশের জমির মালিকানা বিরোধের বিষয়টি ঠিক তেমনি। বছরের যেকোন সময় দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগের একভাগ মানুষ জমির মালিকানা বিরোধের বিষফোড়া নিয়ে দিন কাটায়। কারো বিরোধ মেটে তো, অন্য কারো বিরোধ নতুন করে শুরু হয়।
এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় দেশে জমির মালিকানা নিয়ে বছরে বিরোধের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। যার মধ্যে অর্ধেক বিরোধের নিষ্পত্তি হয় গ্রাম্য শালিস ও অনানুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে। বাকি বিরোধগুলো আদালতে গড়ায়।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন যখন হলো তখন জমি নিয়ে বিরোধের কি চিত্র ছিল সেটা জানা যায়না। তবে পাকিস্তানীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা শত্রু সম্পত্তির জমির মালিকানা বিরোধের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ২০০৩ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালতগুলোতে নিষ্পত্তির জন্যে অপেক্ষমান মোট ১৮ লাখ ২০ হাজার মামলার মধ্যে ১৩ লাখ ৯০ হাজার মামলা (মোট মামলার ৭৭ শতাংশ) ছিল ভূমি সংক্রান্ত। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের আরেকটি গবেষণা দেখা যায় ভূমি সংক্রান্ত নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমান মামলার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০ লাখ হয়েছে। জরিপভিত্তিক এই গবেষণা থেকে আরো জানা যায় যে, বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া প্রায় ৬ ভাগ পরিবার জমিজমা নিয়ে ভবিষ্যতে আবারো বিরোধ হওয়ার আশঙ্কা করেন।
জমিজমার বিরোধ যে শুধু মামলা মোকাদ্দমায় শেষ হয়, তা নয়। মারধোর থেকে শুরু করে খুন খারাবি পর্যন্ত হয়। বিরোধে যারা জড়ায় তারা সবসময় একটা ভীতিপূর্ণ জীবনযাপন করে। একবার মারামারি হলে, সেটার প্রতিশোধ হিসেবে আরেকবার এবং বারবার মারামারি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। গবেষণায় জানা যায়, মোট বিরোধের সাড়ে ৭ ভাগ বিরোধ মারামারিতে গড়ায় অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩ লাখ মারামারির ঘটনা ঘটে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে। অন্য হিসেবে বাংলাদেশের ৩ কোটি পরিবারের মধ্যে ৫০ লাখ পরিবার জমির মালিকানা বিরোধে জড়িত।
আরেকটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, দেশের মোট চাষযোগ্য জমির প্রায় ২৫ শতাংশ মামলার অধীন। কোনো কোনো মামলা ৫০ বছর ধরে চলছে। তবে গড়ে ভূমি সংক্রান্ত একটি মামলা বাংলাদেশের আদালতে নিষ্পত্তি হতে প্রায় সাড়ে ৯ বছর লেগে যায়। আর জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় প্রতি বছর ৪০ হাজার কোটি টাকারও কিছু বেশি খরচ হয়। একটি পরিবারের মোট আয়ের ৪৫ ভাগ পর্যন্ত জমির মামলা পরিচালনায় খরচ হতে পারে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মোট খরচ হওয়া অর্থের ৫০ ভাগের বেশি খরচ হয় আইনজীবি নিয়োগের জন্য। বাকি অর্ধেক টাকার বড় অংশ খরচ হয় ঘুষ দিতে। এই টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয় পুলিশ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। এতো গেলো প্রত্যক্ষ দুর্নীতি ও জাতীয় ক্ষতির কথা। এর বাইরে পরোক্ষ ক্ষতির পরিমাণের তালিকা আরো দীর্ঘ।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে লিপ্ত পক্ষগুলো এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। ফলে তাদের অনেকে অসুস্থ ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। তাদের কর্মক্ষমতা লোপ পায়। ফলে তাদের আয় কমে যায়। তাদের অনেকে পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে পারেন না। তাদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে মামলা চালাতে গিয়ে তারা সঞ্চিত অর্থ থেকে খরচ করেন। সবমিলিয়ে তারা ক্রমেই দরিদ্র হয়ে পড়েন। তাছাড়া চর দখল, বিরোধপূর্ণ জমি থেকে ধান কেটে নিয়ে আসা, মারামারি ইত্যাদি থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার লোক মারা যান। আহত হন আরো কয়েকগুণ বেশি। এদেশের গ্রামে গঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে শিশু ও কিশোরদের মামলার আসামী করার যেমন ব্যাপক ঘটনা ঘটে তেমনি হত্যা ও গুম করার ঘটনাও ঘটে অনেক।
ভূমি সংক্রান্ত এই ধরনের অরাজকতার অবসানের পাশাপাশি জমি কেনা বেচা ও উত্তরাধিকারদের মধ্যে জমির সুষ্ঠু বন্টন দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিত করার সহজ বুদ্ধিটি হলো ভূমি ব্যবস্থাপনার সনাতন পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসা। আমাদের দেশে এখন ভূমি রক্ষণাবেক্ষন প্রধান তিনটি অংশে বিভক্ত। এগুলো হলো ভূমি জরিপ, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি রেজিস্ট্রেশন। এতে আবার তিন ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা। ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ একটি মন্ত্রণালয় না হয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত। দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো আইনগত। লক্ষ্য করা যায় সরকারের তিনটি দপ্তর তিনটি আইনের অধীনে ভূমি সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করে। তৃতীয় সমস্যাটি হলো পদ্ধতিগত। বিদ্যমান পদ্ধতিটি নিজে থেকেই জটিল। একটি নির্দিষ্ট জমির অতীত থেকে শুরু করে সকল নকশাই ভূমি জরিপ, মালিকানা, ব্যবহার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং শহর ও নগর পরিকল্পনার জন্যে জরুরি। এ লক্ষ্যে মৌজা নকশার সিএস নকশা, এসএ নকশা, আরএস নকশা ও বিএস নকশা যথাযথভাবে থাকা জরুরি।
বর্তমান তথ্য ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় দেখা যায় মৌজা নকশার দাগ অস্পষ্ট। দীর্ঘ সময়ের কারণে নকশার কাগজ দুর্বল হয়ে কাগজে বিকৃতি ঘটেছে। ফলে জমির পরিমাণ ও সীমানা নির্ধারণ জটিল ও কঠিন হয়ে পড়ে। নকশা ও বাস্তব পরিমাপে পার্থক্য দেখা দেয়। এতে মালিকানা বিরোধ নিষ্পত্তির বদলে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। বিষয়টির শেষ এখানেই নয়। নকশার প্রতিলিপি ব্যবহার ও বিতরণের বিষয়টিও জটিল। মূল কপি মাত্র একটি হয়। এখন সেই মূলকপির কয়টি কপি করা হবে সেই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াটিও সহজ নয়। তাছাড়া নকশার প্রতিলিপি প্রস্তুত করা সময় সাপেক্ষ ও ত্রুটিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এদিকে জমির মালিকানার আইনগত ভিত্তি হলো খতিয়ান। খতিয়ান সংরক্ষণ করা হয় বালাম বইয়ে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ বালাম বই জীর্ণ হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু কীটে খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। এই ধরনের বালাম বই সংরক্ষণের জন্যে যেমন অনেক জায়গা লাগে তেমনি দরকারের সময় এগুলো তল্লাশি করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। এই ধরনের সনাতনী ব্যবস্থাপনার জন্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ লোকও আবার ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলোতে নেই। ফলে, রেজিস্টারে গাণিতিক ভুল প্রায়শ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই ধরনের গাণিতিক ভুলগুলো শুদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি আবার দীর্ঘ।
এই অবস্থার পরিবর্তনে ১৯৯৫-৯৭ সালে দুই বছর মেয়াদকালে তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রথমবারের মতো দেশে ডিজিটাল ম্যাপিং এন্ড খতিয়ান প্রিন্টিং কমপিউটার সিস্টেম নামে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় একটি জিআইএস সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল মৌজা মানচিত্র বাংলায় ডিজিটাইজেশন ও প্রিন্টিং করার জন্য। তিনটি উপজেলার ভূমির মানচিত্র ও খতিয়ানের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছিল। এই কাজটি সুষ্ঠুভাবে করার জন্য সরকারি দপ্তরের লোকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। কাজটি করার জন্য সরকারকে সহায়তা দিয়েছিল সিপ্রকো বাংলাদেশ নামের একটি কমপিউটার কোম্পানি ও বিসিএএস নামের একটি এনজিও। পরবর্তীতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাইজেশনের এই কাজটিকে আরো বড় পরিসরে সারা দেশে বাস্তবায়ন করছে। দেশের ৪ কোটি ৫৮ লাখ জমির কাগজ স্ক্যান করা হচ্ছে। এলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
কিন্তু এই ধরনের খতিয়ান প্রিন্ট কিংবা মিউটেশনের কাগজ কমপিউটারে প্রিন্ট দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জটিল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বিরোধ নিষ্পত্তি হবে না। বাংলাদেশের ভূমি সংক্রান্ত গবেষকদের প্রায় সবাই মনে করেন যে, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান হলো সমন্বিত কম্পিউটারাইজড ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করা। এটি শুধুমাত্র ভূমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ নিষ্পত্তি করবে না, সেসঙ্গে ভবিষ্যৎ বিরোধ তৈরির পথও বন্ধ করবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৪/০৫ সালে তৎকালীন সরকার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রণমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর সহায়তায় ঢাকার ডেমরা সার্কেলে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। সেখানে প্রথমবারের মতো সমন্বিত কমপিউটারাইজড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএলএমএস) পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডেমরা এলাকার ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধানও করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর দরকার ছিল এই ব্যবস্থাটি পুরো দেশে ছড়িয়ে দেয়া।
এলক্ষ্যে যখন কাজ আগাচ্ছিল তখন নির্বাচন ও অন্যান্য কারণে বিষয়টি দীর্ঘায়িত হতে থাকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সিইজিআইএস-এর একাধিক বৈঠকও হয়। জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটারভিত্তিক ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম প্রবর্তন করার জন্যে প্রযুক্তিগত যে জ্ঞান, দক্ষতা ও যন্ত্রপাতি দরকার তার সবই আমাদের দেশীয় সংস্থা সিইজিআইএস থাকার কারণে তারা সারাদেশের ল্যান্ডকে ডিজিটাল সার্ভে করাসহ পুরো কাজটি করতে আমাদের সময় লাগবে ৭ বছর সময় এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করে। ১৬ কোটি লোকের হিসেবে এই খরচ মাথাপিছু মাত্র ৯৩ টাকা। এসময়ে কয়েকটি কমপিউটার কোম্পানি একত্রিত হয়ে একটি নতুন ধরনের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কাছে যায়। তারা ভূমি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এবং এর সমাধানের উপযুক্ততা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু নিজেদের লাভের কথা বিবেচনায় রেখে আংশিক সমাধান দেয়। তাদের সেই সমাধান হলো অনেকটা বিএনপি আমলের ডিজিটাল ম্যাপিং এন্ড খতিয়ান প্রিন্টিং কাজের বর্ধিত রূপমাত্র। ইতোমধ্যে এই খাতে সরকার বরাদ্দও করেছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যা ও সঙ্কট যেহেতু অনেক গভীরে বিস্তৃত তাই এর সহজ টাইপের এই ধরনের সমাধান খুব একটা টেকসই হবে না। সরকারের ভেতরের কেউ কেউ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে একথা স্বীকার করতেই হবে যে, সার্বিকভাবে দেশের রাজনৈতিক সরকারগুলো দল নির্বিশেষে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন ও কমপিউটারাইজ করার লক্ষ্যে নব্বইয়ের দশক থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করছেন। এই অবস্থায় আমরা আশা করতে পারি স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্তিতে সরকার বিষয়টিকে অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে যাওয়ার পদক্ষেপ নেবেন, যার ফলে শত বছরের ভূমি মালিকানা চিত্র বা ওনারশিপ ট্রি তৈরি হবে। যে সমাধান ডেমরাতে পাইলটিং আগেই করা হয়েছে। তার বিস্তৃতির ফলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপের সকল মৌজা নকশার ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরিতে সক্ষম হবো। যেখানে মূল খতিয়ান, সিএস,এসএ, আরএস ও বিএস মৌজা নকশা স্ক্যানিং শুধু নয়, ভূমি মালিকানা চিত্র সংরক্ষিত হবে এবং সেটা ইন্টারনেটে থাকবে। ফলে সিএস এর শুরু থেকে এযাবতকালে ওই নির্দিষ্ট ভূমির মালিকানায় যতোবার পরিবর্তন হয়েছে, যতোভাবে পরিবর্তন হয়েছে সবই সামারি আকারে জানা যাবে। ভূমি ব্যবহার তথ্যের ডিজিটাল ডাটাবেজ থাকবে। ফলে নকশা খুজে বের করে তা প্রয়োজনীয় স্কেলে মুদ্রণ করা যাবে। খতিয়ান খুজে বের করে তা যেমন মুদ্রণ করা যাবে তেমনি ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য বের করে যথাযথ রাজস্ব আদায় করা নিশ্চিত করা যাবে। খতিয়ান অনুযায়ী ভূমির মালিক যেমন শনাক্ত করা যাবে তেমনি একই মালিকের সকল ভূমি নকশায় চিহ্নিত করা যাবে। বর্তমানে সরকারের যে প্রায় দেড় কোটি বিঘা খাস সম্পত্তি অবৈধ দখলে রয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধার সহজ হবে। সরকারি স্বার্থরক্ষায় সরকারের বিরুদ্ধে রুজুকৃত দেওয়ানী মামলাসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। ভূমি মালিখানার বিরোধ হ্রাস পাবে। নতুন জমি কেনা বেচা সহজতর হবে। নামজারি ও পরচা পেতে এখন যেমন বছর গড়িয়ে যায় সেটা মাত্র ১০ দিনে নেমে আসবে। সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও দপ্তর পূর্বে উল্লেখিত সমন্বিত কমপিউটারাইজড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএলএমএস) এর মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ায় দেশের নাগরিকগণ ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে পাবেন। তখন সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। দেশের মানুষ দেশের অগ্রগতিতে আরো বেশি সময় দিতে পারবে। এভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রকৃত স্বাধীনতা হবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








