বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোটি কোটি আমেরিকান নারীকে বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা না দেয়ার সুযোগ দিয়ে নতুন এক নির্দেশ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই নির্দেশ অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বীমা সংস্থা কর্তৃপক্ষ যে কোনো নারীকে যে কোনো সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে, যদি তাদের মনে হয় সেবাটি তাদের ‘ধর্মবিশ্বাস’ বা ‘নৈতিক মূল্যবোধ’কে আঘাত করে।
সাবেক ওবামা সরকারের সময় চলমান ‘ওবামাকেয়ার’ স্বাস্থ্যনীতিতে সাড়ে ৫ কোটির বেশি নারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সব ধরণের সেবা বিনামূল্যে পেতেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্দেশের অধীনে কোম্পানিগুলো সেই সেবা দিতে বাধ্য ছিল। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের আগেই এই বাধ্যবাধকতা মুক্তির পক্ষে আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে দেখালেন তিনি।
ওবামাকেয়ারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল সব ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণ পণ্য ও সেবা সুলভ করা। এই স্বাস্থ্যনীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বাধ্য ছিল কর্মীদের প্রয়োজন অনুসারে বিনামূল্যে এ ধরণের সুবিধা দিতে।
কিন্তু শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবা (এইচএইচএস) বিভাগ জানায়, কোন সংস্থা বা সংগঠনগুলো এই বিনামূল্য গর্ভনিরোধক সুবিধা দেয়া থেকে বেরিয়ে আসতে বা অস্বীকৃতি জানাতে আগ্রহী তা পরিষ্কারভাবে জানাটা খুব জরুরি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এইচএইচএস কর্মকর্তা বিবিসি’কে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠনকে তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী চলার সুযোগ দিতে চাই, যেন কেউ তাদের ধর্মবিশ্বাসের কারণে বৈষম্যের শিকার না হয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার অব দ্য হাউজ এবং উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ফার্স্ট ডিসট্রিক্ট কংগ্রেসম্যান পল রায়ান প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার পথে একটি দৃষ্টান্তমূলক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মার্কিন ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে অ্যামেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং ন্যাশনাল উইমেন’স ল’ সেন্টার। অনেক সিনেটরও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন। পুরো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এ প্রতিবাদ।








