বুধবার ২৮ বছর পূর্ণ হবে নেইমারের। তার আগেরদিন মঙ্গলবার নতেঁর বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় জন্মদিনের পার্টিটা আগেভাগেই সেরে ফেলেছেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। সোমবার বন্ধুবান্ধব-ক্লাব সতীর্থদের সঙ্গে যখন উৎসবের আমেজে ব্যস্ত ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, তখন পিএসজি নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিলো নতেঁর বিপক্ষে খেলতে পারছেন না নেইমার। কারণ, আবারও চোটে পড়েছেন তিনি।
গত শনিবার মন্টেপিলিয়ের ম্যাচে পায়ে চোট পেয়েছিলেন নেইমার। অবস্থা কতটুকু গুরুতর তখন টের পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সোমবার পিএসজি জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার খেলা হচ্ছে না তাদের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের।
চোটের কারণে অবশ্য জন্মদিন উৎসব পালনে ব্যাঘাত ঘটেনি নেইমারের। আপাদমস্তক সাদা পোশাক গায়ে তার জন্মদিনে অংশ নিয়েছেন ক্লাব সতীর্থ মার্কো ভেরাত্তি, এডিনসন কাভানি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা। সেই পার্টিতে অবশ্য যাননি কাইলিয়ান এমবাপে, পাওলো দিবালার মতো পিএসজি তারকারা। নেইমারের জন্মদিন পালন বাদ দিয়ে দাতব্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন তারা!
নেইমারের জন্মদিন যেন দিন দিন আতঙ্ক হয়ে উঠছে পিএসজির জন্য। তার জন্মদিবস আশেপাশে মানেই চোট। অনেক হৈচৈ করে ২০১৭ সালে বার্সা থেকে প্যারিসের ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন এ ব্রাজিলিয়ান। সেখানে প্রতিটি জন্মদিনই পালন করেছেন কোনো না কোনো চোট নিয়ে। ২০১৯ সালে ক্র্যাচে ভর দিয়ে ৫০০ লোকের বিশাল পার্টির আয়োজন করেছিলেন নেইমার। সেই জন্মদিনে যোগ দিয়েছিলেন ফর্মুলা ওয়ান তারকা লুইস হ্যামিল্টন। গত বছর এরকম আরেক পার্টিতে এসেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং।
নেইমার না থাকায় নতেঁর বিপক্ষে দলের খুব একটা ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন পিএসজির জার্মান কোচ থমাস টুখেল। পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা মার্শেইয়ের সঙ্গে তাদের ব্যবধান পরিষ্কার ১২ পয়েন্ট বেশি।
নেইমারের জন্মদিন ঘিরে অবশ্য বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন টুখেল। বলেছিলেন জন্মদিন পালন করতে গিয়ে ব্যাঘাত ঘটতে পারে ম্যাচ প্রস্তুতিতে, ‘আমি সবসময় আমার খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে চাই। আমি তাদের ভালোবাসি। মনে করি এভাবে চলতে থাকলে খেলোয়াড়দের রক্ষা করা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এভাবে কী একটা ম্যাচের প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব? আমি বলবো তা না। তবে এটাই কি সবচেয়ে খারাপ বিষয়? এবার উত্তর না!’
‘এটা লজ্জার যে আমরাই মানুষকে খারাপ কথা বলার সুযোগ করে দেই। আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তাই বলে আমি কাউকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখবো না বা বাড়িতে গিয়ে ইচ্ছেমত হইহুল্লোড়ও করতে বলবো না।’







