জনসমর্থনের প্রতি তােয়াক্কা না করা বিএনপির জন্মগত মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেছেন
আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
তিনি বলেছেন: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভােট গ্রহণ প্রক্রিয়া সকাল থেকে শুরু হয়েছে। ভােট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রথমবারের মতাে শতভাগ ইভিএম-এর মাধ্যমে ভােট এ চলছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভােট গ্রহণের এই ব্যবস্থাকে আমরা স্বাগত জানাই। বিএনপি আমলে নির্বাচন স্টাইল ছিল-দশটি হােন্ডা, বিশটি গুণ্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা।
শনিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সিটি নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নানক বলেন: ভােটাধিকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। ভােটাররা শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে তাদের ভােটাধিকার প্রয়ােগ করুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিগত দিনগুলােতে আমরা দেখেছি, জনগণের ভােটাধিকার নিয়ে বিএনপি-জামাত চক্র ছিনিমিনি খেলেছে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না, তারা প্রযুক্তির বিপক্ষে কথা বলে। কারণ প্রযুক্তির বিকাশের মধ্যেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের ক্ষমতায়নের পথ সুগম হয়।
তিনি বলেন: কেন্দ্র দখল করে, সিল পিটিয়ে একজনের ভােট আরেকজনের দেওয়ার সুযোগ ইভিএম পদ্ধতিতে নেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার ভােট আমি দেবাে, যাকে পছন্দ তাকে দেবাে। এই নিয়মে ভােট চলছে এবং সেভাবে ভােট হবে। তিনি আরও বলেছেন-‘আজ সবাই ভােট দিতে পারছে, সেই পরিবেশ আমরাই সৃষ্টি করেছি। প্রত্যেকে যার যার ভােট প্রদান করে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে।
বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে নানক বলেন: বিএনপি এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে এটা তাদের পুরানো রেকর্ড। আপনারা ( সাংবাদিক) লক্ষ্য করেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনােনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হােসেন চিরাচরিত মিথ্যাচার দিয়ে দিন শুরু করেছেন। তিনি নিজে গােপীবাগ শহীদ শাহজাহান প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভােট প্রদান করেছেন। সেই কেন্দ্রে তিনি যখন ভােট প্রদান করেন তখন তাদের পােলিং এজেন্ট ছিল না। অথচ তারা বায়বীয় কায়দায় মিথ্যাচার করছে যে, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের পােলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন: আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন যে, ভােট শুরু হওয়ার আগেই ইশরাক বলেছিলেন, ‘আহত বা নিহত যা-ই হই, ভােট কেন্দ্র ত্যাগ করবাে না। যেখানে নিজেদের পােলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে নাই। সেখানে আগে থেকেই আহত বা নিহত হওয়ার কথা বলে মাঠ গরম করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন বানচাল করার দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আমরা আগে থেকেই বলেছি, বিএনপি ঢাকার বাইরে থেকে সন্ত্রাসী-ক্যাডার বাহিনী এনে ঢাকায় জড়াে করেছে। তারা গণ্ডগােল পাকিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে ফায়দা লােটার ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। জনগণ বারংবার বিএনপি-জামাত চক্রকে প্রত্যাখ্যানকরেছে।
তাই জনগণের উপর তাদের আস্থা নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভােটাধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে যে কোন ষড়যন্ত্র মােকাবিলা করবে।







