‘যাদের ভোটারদের কাছে যাওয়ার ক্ষমতা নেই, যারা জনবিচ্ছিন্ন, তারাই বিকল্প উপায়ে ক্ষমতায় যেতে সময় সময়ে ‘ঐক্যের’ কথা বলে। দেশের জনগণ শান্তিতে আছে, তাই ভ্রান্তি ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা সফল হবে না। সিভিল সোসাইটি কিংবা অন্য কারো কাঁধে চেপে ক্ষমতায় আসার দিনও শেষ’।
‘জাতীয় ঐক্য’ গড়তে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চা চক্রের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন।
ড. কামালের সাম্প্রতিক চা চক্রের তীব্র সমালোচনা করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, যারা ভোটের মাঠে বিলুপ্ত প্রায়, তারাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ তুলছে। জাতীয় ঐক্যের নামে অপরাজনীতির ছক কষছে চায়ের টেবিলে।
অবশ্য এমন উদ্যোগে আওয়ামী লীগ মোটেও চিন্তিত নয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়ারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করে ক্ষমতাসীন দলটি। কারণ তাঁর এমন কথা, উদ্যোগ আলোচনা দেশের মানুষ আগেও দেখেছে। সেগুলো সফল হয়নি বরং এক সময়ে দেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল জনগণের কাছে অনেক আগেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মনে করেন আফজাল।
তিনি বলেন, সামরিকতন্ত্রের জোরে ক্ষমতায় জেঁকে বসা মেয়াদউত্তীর্ণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ড. কামাল বাহবা দিয়েছিলেন। আরও বেশিদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিলেন সেই অনির্বাচিত সরকারকে। একটা অগণতান্ত্রিক সরকারকে বৈধতা দেয়া কারও মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানায় না।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আরও বলেন, আজ দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন চা চক্রের নামে কুচক্রীমহল একজোট হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পেছনের দরজা খুঁজছে মন্তব্য করেন। তবে তাদের এমন ভাবনা বোকার স্বর্গে বসবাস ছাড়া আর কিছুই নয়। জনগণ এখন অনেক সচেতন হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে আলোচনার জন্য ড. কামাল কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে চা চক্রে বসার আমন্ত্রণ জানান। অনুষ্ঠানে কামালের সূচনা বক্তব্যে নানা প্রস্তাবনা উঠে আসলেও শেষে কোনো রকম আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। এর কয়েক মাস আগে ড. কামালের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ঐক্য উদ্যোগ’ নামের একটি জোট গঠনের চেষ্টা কার্যত: ব্যর্থ হয়।






