আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালত কক্ষে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
একই সঙ্গে তাদের দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ অর্থ না দিলে ৭ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত রোববার রুলের শুনানির পর আজ রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ। এর আগে গত ২৯ জুলাই স্বপ্রনোদিত হয়ে জনকন্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন আপিল বিভাগ।
রায় ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, ১৯২৬ সালের আদালত অবমাননা আইন অনেক পুরোনো যার সংশোধন হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর তাদের আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নিয়েছি। তবে সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই প্রবন্ধটি লেখা হয়েছিলো। এজন্য আমরা আশা করেছিলাম আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করবেন।
এই রায়ের রিরুদ্ধে রিভিউ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
‘পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে ১৬ জুলাই জনকণ্ঠ পত্রিকায় উপ-সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। যার লেখক ছিলেন স্বদেশ রায়।
ওই উপসম্পাদকীয় প্রকাশের ব্যাখ্যা চেয়ে ২৯ জুলাই সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ ও কলাম লেখক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আদালত আবমাননার রুল জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল।
৯ আগষ্ট রুল শুনানির প্রথম দিনে ৪ বিচারপতি থাকলেও দ্বিতীয় দিনে শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে।
ওই আদালতের নির্দেশে এটর্নি জেনারেল স্বদেশ রায়ের নিবন্ধ পড়ে শোনান।
এর এক জায়গায় বলা হয়েছে, বিচারকদের একজনের সঙ্গে দেখা করেছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা। তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? কেনো শেখ হাসিনার সরকারকে কোনো কোনো বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়?






