কূটনৈতিক জোন গুলশান-বনানী-বারিধারার আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে ৮৩০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বলে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক অনুসন্ধানে জানানো হয়। এর ফল হিসেবে এলাকাগুলো থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সরিয়ে নেয়ার জন্য তাদের নোটিস দেয়া শুরু করেছে প্রশাসন। গত ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের তালিকা মন্ত্রিসভায় উঠলেও গুলশানে জঙ্গি হামলার পর এ নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ব্যবসায়ী, সাবেক ছাত্রনেতা এবং ৯০’র ছাত্র গণঅভ্যুত্থনের সংগঠক মুখলেছউদ্দিন শাহীন। তিনি লিখেছেন:
‘গুলশান বনানীর সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উঠিয়ে দেয়া হবে। লিস্টে নাম দেখলাম হোটেল ওয়েস্ট ইন, হোটেল সারিনা, ব্রিটিশ ক্লাব, গুলশান ক্লাব, অল কমিউনিটি ক্লাব, সাউথ পয়েন্ট স্কুল, আইইউবি, কেএফসি, পিৎজা হাট, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, টার্কিশ হোপ স্কুলসহ অত্র এলাকার সব কয়টি নামী দামি প্রতিষ্ঠানসহ হাজারখানেক হবে। এটা বিকাশমান অর্থনীতির উপর একটি আঘাত। অর্থনীতি বিকাশের সময় তাকে আঘাত করতে হয় না। শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কৌশল নিতে হয়।
আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মতো আরও হামলা যেন না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় বাহিনীকে আরও সুদক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি করে নয়। বড় শহরে আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক এলাকা ভিন্ন হয় কিন্তু ছোট দেশের রাজধানী ঢাকায় এতো জায়গাও নেই আর অবকাঠামোও নেই যে সবকিছু আলাদা স্থানে করা যাবে।
পৃথিবীতে এমন কয়েক শত বড় বড় শহর আছে যেখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ভাগ করা নেই। শুধু শিল্প এলাকা ভাগ করা থাকে। এর মধ্যে দুবাই হংকং সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, সিউল, তাইপে অন্যতম। ইউরোপ আমেরিকা থেকে শহর গড়ে তোলার কনসেপ্ট নেয়া বর্তমানে অচল। কনসেপ্ট নিতে হবে ইদানিং গড়ে উঠা দুবাই হংকং থেকে।
মানুষ যা কিছু করে তার চাহিদা ও প্রয়োজন থেকে করে। সেবামূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আবাসিক এলাকার ক্ষতি করে না। ডিপ্লোম্যাটিক জোনের জন্য স্পেশাল এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকবে না এটা ঠিক আছে। কিন্তু পুরো গুলশান ও বনানী এলাকা ডিপ্লোম্যাটিক জোন না। মানুষ তার চাহিদা ও প্রয়োজন থেকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।
গুলশান ক্লাব, ব্রিটিশ ক্লাব একটি কমিউনিটি ক্লাব সেটা অন্য জায়গায় স্থানান্তরযোগ্য নয়, আবার কেএফসি, পিৎজা হাট এর মতো চেইন আউটলেট তার প্রয়োজন অনুযায়ী আউটলেট করবে, করতে না দিলে বন্ধ করে দিবে। এতে কেএফসি থেকে জনগণের ক্ষতি বেশি। কর্মসংস্থান ও সরকারি কর দু’টো সেক্টরেই ক্ষতি। যে সমস্ত লিস্ট করা হয়েছে তার সব গুলো মিলে কী পরিমাণ ভ্যাট সরকারী কোষাগারে দেয় তার হিসাব করা উচিৎ।
জঙ্গি সমস্যা রাজনৈতিক কিন্তু আঘাত হচ্ছে অর্থনীতিতে। অর্থনীতিকে ক্ষতি করলে রাজনৈতিক সমস্যা বরং বাড়বে।’







