ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে স্পষ্ট জবাব দিতে একটি ‘চরমপন্থি’ হিন্দু দল হাজারো জনগণকে বন্দুক, তলোয়ার এবং রকেট লাঞ্চার দিয়ে যুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণরতদের মধ্যে ৮ বছরের মতো কমবয়সী শিশুরাও রয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে হিন্দু স্বভিমান এরকম ১৫ হাজার যোদ্ধাকে তাদের ‘ধর্ম সেনা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার (টিওআই) তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে এইরকম ৫০টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেখানে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাদের প্রস্তুত করে তোলা হচ্ছে। হিন্দু এই উগ্রবাদী দলের বিশ্বাস তারা সেই এলাকা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে।
প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে “ক্যাচ দেম ইয়ং” বা কমবয়সীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা দলটির লক্ষ্য বলে অভিহিত করেছেন নেতৃস্থানীয় একজন। যেখানে প্রথম ছয় মাসের প্রশিক্ষণের পরই কীভাবে বন্দুক ব্যবহার করা হবে, তা শিখছে শিশুরা।
দলটির এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছেন হিন্দু যোগী সোয়ামি নারসিঙ্গানান্দ সরসতি, পূর্বে তার নাম ছিলো দিপক ত্যাগি। তার আদর্শের উপর ভিত্তি করেই এই ‘আর্মি’ গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি টিওআই’কে জানিয়েছেন আইএসআইএস এর বিরুদ্ধে ‘গুলির বিনিময়ে গুলির’ জবাব দেয়ার জন্য একটি চরমপন্থি হিন্দু দলের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি দেশজুড়ে সকল হিন্দুদের প্রতি সমর্থনের আহবান জানিয়েছেন যাতে করে তারা আরও অস্ত্র সরবরাহ পায়।
মূলত তারা দেশজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের কাছে পৌছানোর জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের ‘শত্রুর’ বিরুদ্ধে যু্দ্ধ করে প্রাণ দেয়া উচিত-এরকম আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তারা প্রতি এক মাসে দুইটি পঞ্চায়েত’এর সাথে কথা বলছে।
টিওআই’কে সরসতি বলেন, পঞ্চায়েতগুলোতে আমি আমার হিন্দু সিংহদের সাহসী হওয়ার জন্য এবং সবসময় কাছে অস্ত্র রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আহবান জানিয়েছি। মুজাফ্ফরনগর দাঙ্গার সময় আমরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে জনগণকে সশস্ত্র হতে বলেছি। যেসকল রাজনীতিবিদরাই হিন্দুদের বাঁচানোর ক্রেডিট দাবি করে, তারা মিথ্যা বলে।







