‘ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল যারা জঙ্গিবাদকে সমর্থন করা তারা মুসলিম নয়। আর
ইসলামের নামে সহিংসতা চালিয়ে ইসলামকেই কলঙ্কিত করা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য
প্রবীণ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের।
শনিবার জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে
জাতীয় প্রেস ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এসব
কথা বলেন তারা।
জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টার মানববন্ধনে সমবেত হন প্রবীণ ও গুণী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতারা।
সকাল এগারোটা থেকে এক ঘণ্টার ঐ মানববন্ধনের যৌথ উদ্যোক্তা জাতীয় প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন।
একই সময় সারাদেশের প্রেসক্লাবের সামনেও ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক ঐ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সাংবাদিকরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে
সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
লড়াই যখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তখন সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই বলে ওই মানববন্ধনে মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আজ পুরো জাতি ও রাষ্ট্রকে একটি সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইসলামে সহিংসতার কোনো ঠাঁই নেই।’
গুলশানে রেস্টুরেন্টে হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আজ যারা ইসলামের নামে সহিংসতা করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামকেই কলঙ্কিত করছে। কাজেই প্রকৃত ইসলামের অনুসারী মুসলিম সমাজ ও বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক নাগরিক সমাজকে ধর্মের নামে অধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সবসময় বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কিন্তু কেউ যদি নিজের রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করে, তবে সেই লড়াইয়ে রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। এখানে নিরপেক্ষতার কোনো সুযোগ নেই।
ওই মানববন্ধনে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রবীণ ও নবীণ সদস্য, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশেই বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছেন।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধনে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক নেতারা। রংপুর প্রেসক্লাবের সামনেও মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতারা সমাবেশে বক্তৃতা করেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মানববন্ধনে সাংবদিক ছাড়াও অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
রাজশাহীতে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন করেছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন। নগরীর আলুপট্টিতে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক নেতারা। একই দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছেন।
‘আপনার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ রাখুন’ আহ্বানে খুলনায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন খুলনার সাংবাদিকরা। খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সিলেটে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন করেছে সিলেট প্রেসক্লাব। মানববন্ধন থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতারা।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের আয়োজনে জঙ্গি বিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেন সাংবাদিক নেতারা।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে সারাদেশের মতো টাঙ্গাইল জেলারও সবক’টি প্রেসক্লাব একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের সাংবাদিকরা সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ইসলাম সরণীতে অবস্থিত প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।








