সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে সরকার। হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়ার মতো ঘটনায় জঙ্গিদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ঘটনায় বিচলিত সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যা, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে দেশের মধ্যে নিজেদের শক্তিশালী অস্তিত্ব জানান দেয় জঙ্গিরা। লোমহর্ষক সেই চিত্র সাধারণ মানুষের মতো নাড়া দেয় সরকারকেও।
ওইসব ঘটনায় জঙ্গিদের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতায় বিস্মিত ও বিচলিত হয় সকল মহল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তাই নড়েচড়ে বসে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও। তারই অংশ হিসেবে চলছে জঙ্গিদের তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, সারা বিশ্বেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরণের রিক্রুটমেন্ট করছে, তরুণদের বিপথে পরিচালিত করছে। মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বসে খুব কঠোরভাবে একে মনিটর করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
কেউ যদি দেশদ্রোহীতামূলক বা জঙ্গি-সন্ত্রাসের পক্ষে কোনো প্রচারণা করেন, তবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গিরা যাতে নিজেদের সংগঠিত বা জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে সেইজন্য দ্রুতই আইন প্রণয়নের পথে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটি ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিল থাকবে। সেখানে একটি ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি এবং সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম থাকবে। এর সঙ্গে একটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব আমরা স্থাপন করব।’
একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান পলক। বলেন, সেটি দিয়ে কখন, কোন অবস্থায় কার কী দায়িত্ব, কীভাবে সেটি পালন করা হবে – এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা – সবার সঙ্গে আলোচনা করে দেশের সাইবার জগৎকে নিরাপদ করার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি যে কোনো ধরনের সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠারও কাজ চলছে।








