রাজধানীর বাজারে নেই কোনো মনিটরিং, ক্রেতাদের দুভোর্গ চরমে। শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম আর বৈশাখের রোদ দুটো’ই যেন একইভাবেই পোড়াচ্ছে তাদের জীবন।
সাংসারিক বাজারের সঙ্গে পবিত্র শবেবরাতকে সামনে রেখে কাওয়ান বাজারে এসেছেন চাকুরিজীবী মো: আসলাম। বাজার করতে এসে ক্লান্ত এই মানুষটি রেগে গিয়ে চড়াও হলেন এক বিক্রেতার উপর। জানতে চাওয়া হলো কেন এই রাগের কারণ?
তিনি বলেন: অনেক ধৈর্য নিয়ে বাজারে করতে এসেছি কিন্তু ধৈর্য রাখতে পারিনি। দু’দিন আগে এক পণ্য কিনলাম এক দামে আর দু’দিন পর এসে দেখি দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে ওই পণ্যটি। বলেন, দু’দিনেই কি একটি পণ্যের দাম এতো বাড়তে পারে। বাজারে কোনো মনিটরিং নেই যে যার মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। আমরা যেন ওদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। যেভাবে বলছে সেভাবে বাধ্য হয়ে কিনছি। সরকার আমাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না।
ঠিক একই রকম চিত্র দেখা গেল কারওয়ান বাজারের আরেকটি মুদি দোকানের সামনে। চাকুরিজীবী রেজাউল করিমের মাথায় আগুন। কারণ ছোলার দাম প্রতি কেজিতে ১০টাকা বৃদ্ধি। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শবেবরাত উপলক্ষে ছোলার ডাল কিনতে এসে অবাক। ডাল যেন সোনায় মোড়ানো এক কেজি ডাল ১০০টাকায় কিনলাম। এভাবে যদি ছোলার দাম বাড়তে থাকে তাহলে রোজায় এবার ছোলা খাওয়া হবে না। অথচ ছোলা ছাড়া রোজার দিনে ইফতারি ভাবাই যায়না। এছাড়া চিনি, তেল, মসলা জাতীয় সব পণ্যের দামও দ্বিগুণ।
তার সূত্র ধরেই খুচরা ব্যবসায়ী মো: বছিরের কাছে জানতে চাওয়া ছোলার দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণ কি? চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: পাইকারিভাবে আমরা ছোলার ডাল বেশি দামে কিনে আনছি। গুদামে ছোলা আটকে রেখে তারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
দ্বিমত পোষণ করে পাইকারি ব্যবসায়ী নূরে আলম বলেন, গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য নেই। মালিকদের কাছ থেকে পণ্য না পাওয়ায় অামাদের দাম বাড়াতে হচ্ছে। রমজানের আগে যদি ছোলা ও চিনি কলের মালিকরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আমদানি না করে তাহলে দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।
শবেবরাতের প্রায় পাঁচদিন আগ থেকে সব ধরণে পণ্যের দাম চড়া। পাইকারিভাবে প্রতি কেজি ডাবলি ডাল ৩৬ টাকা ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। ঠিক একইভাবে প্রতি কেজি খেসারি ডাল পাইকারি ৭০ টাকা বিক্রি হলেও পাঁচ টাকা বেড়ে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়।
সবচেয়ে আকাশ ছোঁয়া দাম বেড়েছে ছোলার ডালে প্রতি কেজি ছোলার ডাল পাইকারি ৯৪ টাকা ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকায়। দু’দিনের ব্যবধানে ছোলার কেজি প্রতিতে ২০টাকা বেড়েছে।
শবে বরাত উপলক্ষে বাজারে মসলা জাতীয় সব পণ্যের দাম চড়া। জিরা ২০টাকা বেড়ে ৩৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাচ দু’শ টাকা বেড়ে প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৩০০টাকায়।
অন্যদিকে দারচিনি প্রতি কেজিতে ১০টাকা বেড়ে ২৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি প্রতি কেজিতে ১২ টাকা বেড়ে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিসমিস প্রতি কেজিতে ৫০টাকা বেড়ে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।








