ছোট হয়ে আসছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের শালবন। হুমকির মুখে এই জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্যও। বন আর জীববৈচিত্র রক্ষায় এলাকাবাসীকে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগের তৎপরতা জোরদারের আহবান জানানো হয়েছে সচেতনতা কর্মসূচিতে।
মধুপর শালবনের আয়তন ১৯৮৮ সালে বলা হতো ৪৫ হাজার বর্গকিলোমিটার। দু’ বছর পর ১৯৯০ সালের মধ্যে বেদখল ২৮ হাজার এবং ২০০৯ সালে তা বেড়ে ৩৫ হাজার। কাগজে কলমে এখনো ২০ হাজার বর্গকিলোমটার দেখানো হলেও বাস্তবে তার অর্ধেক।
আয়তনের মতোই কমে এসেছে জীববৈচিত্র্যও। শালবনে এখনে যেসব প্রাণী আছে খাবার সংকটে তারাও হুমকির মুখে।
একসময় বাঘ-ভাল্লুক ছিলো মধুপুর শালবনে। এখন বানর আর অল্প সংখ্যক মায়া হরিণ ছাড়া অন্য প্রাণীগুলো প্রায় অস্তিত্বহীন।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, অনেকে জঙ্গলের মাঝখানে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন। গাছপালা কাটার ফলে শালবন দিনে দিনে ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাই গাছ না থাকার কারণে প্রাণীদের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
গাছ গাছালি আর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মধুপুরের দোখলায় বনের পাশে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা।
মধুপুরের জাতীয় উদ্যানকে ধরে রাখতে এলাকাবাসীর সহায়তা চেয়ে মধুপুর টাঙ্গাইল সহকারী বনসংরক্ষক বশিরুল ইসলাম বলেন, সবাই যদি প্রত্যয়ি হই, বন্য প্রাণী এবং বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতি হতে না দেই তাহলে বন বাঁচবে আর বন বাঁচলে বন্য প্রাণীও বাঁচবে।
বনবিভাগ আর এলাকাবাসীকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, মধ্য প্রাচ্য তাদের মরুভূমিকে সবুজ করার চেষ্টা করছে, আর আমরা নিজেদের জন্য নদীকে ভরাট করছি, গাছ কেটে ফেলছি। বন্য প্রাণীদের গৃহহারা করছি। তাই সবার কাছে একটি আবেদন, আসুন একসাথে হাতে হাত মিলিয়ে আমাদের পরিবেশ রক্ষা করি।
আহবানে সাড়া দিয়ে মুখ খোলেন বননির্ভরশীলরা। বেদখল ঠেকাতে তৎপর হওয়ার আহবান জানান বনবিভাগকে ।
শুধু বক্তৃতায় নয় বন আর বনজীবী রক্ষার আহবানও ছিলো গারোদের নিজস্ব ভাষা, সুর আর ঐতিহ্যবাহী ঢঙেও। সেসময় দেশ আর পরিবেশ-প্রকৃতির প্রয়োজনে হাতে হাত রেখে মধুপুর শালবন রক্ষার শপথও নেয় এলাকাবাসী ।







