জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐক্যজোট’র সঙ্গে ১৪ দলীয় মহাজোটের আলোচনা শুরুর পর একপর্যায়ে সিপিবির কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর বৃস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এবং তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান নাজমুল হুদার সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করেছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ এ নেতা। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে ছোট দলগুলোর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের কেন এ ধারাবাহিক বৈঠক?
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বৈঠক শুধুমাত্র চলমান রাজনীতিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা মাত্র। এ ছোট দলগুলোকে নির্বাচনী জোটে টানা হবে কিনা তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়।
এক্ষেত্রে নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জাতীয় ঐক্যজোট এরই মধ্যে ১৪ দলীয় মহাজোটের অংশ হতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেছে। তবে তারা মহাজোটে আসছে কিনা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোহাম্মদ নাসিম বলছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নাজমুল হুদার জাতীয় ঐক্যজোটের সঙ্গে নির্বাচনী জোট নিয়ে মতভেদ আছে মহাজোটে। জোটের একটি অংশ এরই মধ্যে হুঁশিয়ারী দিয়ে রেখেছে জাতীয় ঐক্যজোটের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোট যদি আওয়ামী লীগ করে তাহলে তারা ১৪ দল থেকে বের হয়ে যাবে। তাদের অভিযোগ, জাতীয় ঐক্যজোটের দলগুলোর মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। এমন পরিস্থিতিতে নাজমুল হুদার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। কারণ মহাজোটের সিদ্ধান্তহীনতায় এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।
অপরদিকে গত মঙ্গলবার সকালে পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে সিপিবি কার্যালয়ে যান ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি প্রায় ঘণ্টা খানেক অবস্থান করেন। এসময় তিনি দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে গত ১৮ জুলাই বাম গণতান্ত্রিক জোট নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করে। এই জোটে বাম ঘরনার আটটি দল রয়েছে। ওই বৈঠকের পর ধারণা করা হচ্ছিলো আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী জোটে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’কে চাইছে।
তবে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এরই মধ্যে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করার চিন্তা আমাদের নেই। কার্যকর বিরোধী দল হিসেবেই আমরা ভূমিকা পালন করতে চাই।
এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের চাওয়া জোটে না এলেও বাম গণতান্ত্রিক জোট অন্তত নির্বাচনে আসুক, যেটা ২০১৪ সালে সম্ভব হয়নি। সেবার গণভবনে সিপিবির সঙ্গে বৈঠক করেও দলটিকে নির্বাচনে আনতে পারেনি আওয়ামী লীগ। বিএনপির সঙ্গে তারাও সেবার নির্বাচন বর্জন করেছিল। 
অবশ্য এই বৈঠকগুলোতে ‘রাজনীতির রঙ’ চড়াতে নারাজ ওবায়দুল কাদের। তিনি বলছেন: এ বৈঠকগুলো রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের অংশ মাত্র। আমি কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে গিয়েছি। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাহেব আমরা এক সঙ্গে রাজনীতি করেছি। নানান ব্যস্ততার জন্য তাদের অফিসে যাওয়া হয়নি। হয়তো যেতে চেয়েছি, তিনি তখন অফিসে নেই। সেদিন তিনি অফিসে ছিলেন, আমি গিয়েছি। আলোচনা হতে পারে। রাজনীতিতে যতটা সম্ভব একটা ওয়ার্কিং আন্ডার স্ট্যান্ডিং থাকা দরকার।
ছোট দলগুলোর নতুন জোটগুলো যেন বিএনপির দিকে না ঝুঁকে সেদিকেও নজর রয়েছে আওয়ামী লীগের।
নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ জোটের সম্প্রসারণ করবে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুর রাজ্জাক বলেন, এটা মেরুকরণের বিষয়। নির্বাচন আসলে জোট পুনঃগঠনের ঘটনা ঘটবে। তাছাড়া দেশে জোটভিত্তিক রাজনীতি আছে। সামনে জোটের পরিধি বাড়তেও পারে। এটা এখনই বলা যাবে না।
‘অনেকে জোটে আসতে চাইতে পারে। অনেকে আবার আলাদা জোট গঠন করছে। শেষ পর্যন্ত এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দেখা যাবে। এজন্য অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে। ’
বাম দলগুলোকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতার পর্যবেক্ষেণ হচ্ছে, ‘রাজনীতিতে তারা অনেকটা এতিমের মতো। মূল ধারা থেকে দূরে গিয়ে তারা কী করতে চায় সেটাই বুঝতে পারছে না। অনেকটা দিশেহারা অবস্থা। এই পথহারা পাখিরা কী করবে, সে বিষয়ে কনক্লুশন ড্র করা আমার পক্ষে কঠিন।’
আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের কোনো রাজনৈতিক দল যদি নতুন করে মহাজোটে আসতে চায়, আমরা বিষয়টি চিন্তাভাবনা করবো।








