জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন’র উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে?’ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে । এর নির্মাতা নাদের চৌধুরী, প্রধান নারী চরিত্রের অভিনেত্রী জলি ও অভিনেতা শাহরিয়াজ আজ চ্যানেল আই-এর সরাসরি সম্প্রচারিত ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে তারা ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে?’ নিয়ে কথা বলেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ সময়ের মজার অভিজ্ঞতা, ভালো লাগা, ভালো না লাগা ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তারা।
জলি বলেন, ‘আমার চরিত্রটার নাম হচ্ছে কৃষ্ণকলি। কৃষ্ণকলি একজন হিন্দু মেয়ে। যার কাছে ধর্ম একটা বড় বিষয়। বড় বিষয় তার জাত ও পরিবার। সে কিছুতেই তার পরিবারকে হারাতে চায় না।’

নির্মাতা নাদের চৌধুরী জানান, এটা একটা ফ্যামিলি ড্রামা। সামাজিক বিনোদন ধর্মী ছবি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করা যাবে। তিনি বলেন, ‘ইমদাদুল হক মিলনের অসাধারণ গল্পটিকে আমি একটা অসাধারণ চিত্ররূপ দিতে চেয়েছি।’
সিনেমায় জলির অভিনয় প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘নিয়তী সিনেমায় জলি’র অভিনয় দেখেই আমি সিদ্ধান্ত নিই কৃষ্ণকলি’র চরিত্রে আমি তাকে নেবো। এবং জলির অভিনয়ে আমি তাকে একশ’তে একশ দেবো।’

সিনেমা নির্মাণ সময়ের অভিজ্ঞতা কথা বলতে গিয়ে নাদের চৌধুরী বেশ কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তার মাঝে শ্যুটিং এর সময় সাপের উপদ্রবের কথা বলেন। আর জানান, ‘খুব সমস্যা হচ্ছিলো কবরস্থান পেতে। কেউ আমাকে কবরস্থানে শ্যুটিং করতে দেবে না। চারজন কথা দিয়েও কথা রাখতে পারেনি। শেষে বিকল্প উপায় খুঁজে নিতে হয়েছে আমাদের।’

সিনেমায় কৃষ্ণকলি অর্থাৎ জলি’র বিপরীতে ‘রাজা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহ রিয়াজ। শাহ রিয়াজ বলেন, ‘রাইসুল ইসলাম আসাদ, মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু এতো বড় বড় অভিনেতার সাথে কাজ করতে পারার অভিজ্ঞতাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। আমি খুব ইনজয় করেছি সিনেমার কাজটি। সিনেমায় আমি মুসলমান ছেলে। রাজা আমার নাম। আমি ভালোবাসি হিন্দু কৃষ্ণকলিকে। ধর্মের চেয়ে আমার কাছে প্রেম বড়। চমৎকার এই সিনেমা দেখে দর্শকের মনে হবে না টিকিটের টাকাটা অপচয় হলো। দর্শকদের বলবো মার্চেই তো আমাদের জন্ম, এই মার্চেই আপনারা বাংলা সিনেমায় বিপ্লব আনতে পারেন ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ সিনেমা হলে গিয়ে দেখে। একটা ভালো সিনেমাই আরো দশটি ভালো সিনেমা তৈরির অনুপ্রেরণা।’
শেষ মুহূর্তে এসে জলিকে জিজ্ঞেস করা হয় , ‘ছেলেটি মুসলমান, মেয়েটি হিন্দু। একদিকে তাদের ভালোবাসা, আর একদিকে ধর্ম। মেয়েটি এখন কোথায় যাবে?’
জলি হাসেন। তিনি বলেন, ‘জলি এখন দর্শকের কাছে যাবে। ১০ মার্চ মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা। জলি এখন দর্শকের দিকেই হাঁটছে।’








