ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে বৈধ ছাত্রীদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কক্ষ দখল এবং এক ছাত্রীকে মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার।
ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘হলে কোন মারামারিই হয়নি, আহত হবে কীভাবে? এ অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্রলীগ কক্ষ দখলের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সাধারণ ছাত্রীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে হলে পুনরায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ছাত্রলীগ। এসময় তাদের হামলায় এক ছাত্রী আহত হন।
রোকেয়া হলের সাধারণ ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের বর্ধিত ভবনের ৩০ নম্বর কক্ষটি ৫ জনের নামে বরাদ্দ। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার অবৈধ ছাত্রীদের ওঠানোর জন্য বৈধ ছাত্রীদের কক্ষ ছেড়ে দিতে বলে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনিস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে উঠিয়ে দেয়। বাকি চারটি সিটেও পরবর্তীতে অন্যদের ওঠানো হবে বলে হুমকি দেওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি হলের আবাসিক শিক্ষকদের জানায় এবং হলে বিক্ষোভ করে।
তবে লিপি আক্তারের দাবি, ওই কক্ষে ছাত্রলীগের এক কর্মী থাকতো। সে একজন গেস্ট নিয়ে আসায় রুমমেটদের সঙ্গে তার ঝামেলা হয়। পরবর্তীতে সে বলে যে, রুম পলিটিক্যাল হয়ে যাবে। এর জেরেই ছাত্রীদের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি হয়।
অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রীদের উস্কে দেওয়ার জন্য তিনি বাম সংগঠনের ছাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
সাধারণ ছাত্রীদের অভিযোগ, হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে কক্ষ দখল প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছে। এর আগে ছাত্রলীগ হলের মূল ভবনের ২, ৭, ১০, ২৩, ৩৮, ৩৯ নম্বর কক্ষ এবং বর্ধিত ভবনের ২ ও ৫৩ নং কক্ষ দখল করে। সেসময় শিক্ষকরা বাঁধা দিয়েও তাদের নিবৃত করতে পারেনি।

কক্ষ দখল প্রক্রিয়ার দাবি নাকচ করে লিপি আক্তারের বলেন, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর কক্ষগুলো আগে থেকেই ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ থাকতো। কিন্তু অন্য যেসব কক্ষে আমাদের কর্মীরা থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাবে, সেগুলো পলিটিক্যাল রুম।
শুক্রবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি নিয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ও হাউজ টিউটরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে হল প্রাধ্যক্ষ কোন সমাধান না দিয়ে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেসকল কক্ষ দখলের অভিযোগ এনেছে সেগুলো ভিজিট করে আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া সার্বিক বিষয় নিয়ে আগামিকাল (শনিবার) হাউজ টিউটরদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসবো।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে, যে রুম গুলো ছাত্রলীগ দখল করেছে সেগুলো দখলমুক্ত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দিতে হবে, প্রতিমাসে হলের বিষয় নিয়ে সাধারণ সভা করতে হবে এবং জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে হলের কক্ষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।








