বুয়েট থেকে বহিস্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্রজ্যোতি ঠিকাদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনকের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর জরুরি বৈঠক শেষে বুয়েট কর্তৃপক্ষ চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছে।
সভাশেষে ভাইস-চ্যান্সেলর খালেদা একরাম জানিয়েছেন, তারা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট চ্যান্সেলরের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এখন তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
‘এছাড়া আমাদের আর অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেই,’ বলে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যান ভাইস-চ্যান্সেলর।
অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অফিস থেকে তাৎক্ষণিক কিছু জানোনো হয়নি।
তবে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সিন্ডিকেটের অবস্থান জানার পর সকাল থেকে শুরু হওয়া তাদের গণসংহতি কর্মসূচি স্থগিত করেছে ছাত্রলীগ। হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানার পর তারা করতালি দিয়ে ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানিয়েছিলো।
বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পর সেই খবর বুয়েটের সর্ববৃহৎ গ্রুপে পোস্ট করা হয়। সেখানে একজনের ‘জয় বাংলা’ মন্তব্যের বিপরীতে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম মন্তব্য করেন ‘জয় মা কালী! জয় ইন্ডিয়া’।
ছাত্ররা ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ করলে তিনি মন্তব্যটি সম্পাদনা করে লিখেন ‘জয় ইন্ডিয়া, জয় মাসল পাওয়ার, জয় নেস্টি পলিটিক্স, জয় ইনজাস্টিস’।
পরের দিন বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র এবং সাধারণ সম্পাদক কনক আরো কয়েকজনকে নিয়ে যখন মিষ্টি বিতরণ করছিলেন জাহাঙ্গীর আলম তখন কনক এবং শুভ্রকে গালি-গালাজ করে বলে অভিযোগ আছে। তারা এর প্রতিবাদ করলে কয়েকদিন পর ওই শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্র শুভ্র এবং কনককে আজীবন বহিস্কার করে। একই সঙ্গে আরো কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট হলে সোমবার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং হলে থাকাসহ ছাত্র হিসেবে তাদের সকল সুযোগ নিশ্চিত করার আদেশও দেন হাইকোর্ট। রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
হাইকোর্টের অাদেশের আগে বুয়েটে গণসংহতি সমাবেশ শুরু করে ছাত্রলীগ। সমাবেশে ওই দুই নেতাসহ বহিস্কৃত অন্য নেতাদের শাস্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
আর এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করায় বুয়েটের ওই শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের আওতায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়।







