চ্যানেল আইয়ের ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন তার শুভেচ্ছা বাণীতে বলেছেন, চ্যানেল আই আমার কাছে এক বিস্ময়। হাসতে হাসতে একেকটি অবাক করার মতো কাজ উপহার দেয় এই চ্যানেলটি। শুরু থেকে এ পর্যন্ত কত যে চ্যানেল আইয়ে অনুষ্ঠান করেছি, তাদের আমন্ত্রণে দেশে বিদেশে গান গাইতে গেছি, হিসাব নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘‘দেখেছি, মানুষ এই টেলিভিশনকে কত ভালোবাসে। কারণ, আমার ভাইতুল্য ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ অন্যরকম যাদুকরি ক্ষমতায় মানুষকে মুগ্ধ করতে পারেন। তারা তাদের প্রতিটি কাজে সমাজের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মানুষদেরকে সম্পৃক্ত করেন। তারা শুদ্ধ ধারার চর্চা করে ও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেন। এগুলো অনেক বড় কাজ। এগুলোই দেশের কাজ, সংস্কৃতির কাজ।
আমি এখন এক বর্ধিত জীবনে আছি বলা যায়। মহান রাব্বুল আল আমীন আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি আবারও সবার মাঝে সঙ্গীতে ফিরতে পেরেছি। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি নেই। এখানে বলতেই হবে, আমার সেই কঠিন সময়টিতে চ্যানেল আই যে দায়িত্ব পালন করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দেশের প্রতিটি শিল্পীর পাশে তারা দাঁড়ায়। আসলে আমাদের দেশের শিল্পীরা সৃষ্টিপ্রাণ কিন্তু বৈষয়িক প্রশ্নে তাদের বড় অংশটি অসহায়। চ্যানেল আই ঠিক এই জায়গাটিতেই প্রসারিত করেছে তাদের আন্তরিকতার হাত। তারা দেশের সব কৃতি শিল্পীদের বুকে টেনে নিয়েই পথ চলছে। পৃথিবীময় ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বাঙালি চ্যানেল আইকে ভালোবাসে। চ্যানেল আই যা করে তা অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে করে। আমাদের দেশের সুস্থ সঙ্গীত চর্চার বিকাশে তাদের বড় অবদান। একই সঙ্গে বলতেই হয়, চলচ্চিত্র, নাটক, সংবাদ, টক শো থেকে শুরু করে সব আয়োজনেই চ্যানেল আইয়ের জুড়ি নেই।’’
চ্যানেল আই এর যখন জন্মদিন পালন হয়, আমার ভালো লাগে। ‘একটি স্বপ্ন, একটি শপথ, সেই থেকে পথচলা, সবার আগে দেশ বড়, সেই কথাটিই বলা, চ্যানেল আইয়ের এই সূচনা সঙ্গীত দিনব্যাপী বাজতে থাকে। সারাদেশের চ্যানেল আই এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এই গান বাজে। গানটিতে আমি কণ্ঠ দিয়েছি সে জন্য নয়, একটি টেলিভিশনের পথচলার এই অঙ্গীকার আমার কাছে অনেক দামী। যেমন চ্যানেল আই এর স্লোগান ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’, এটিও উদ্যোক্তাদের চেতনা ও বিশ্বাসের গভীর জায়গাটিকে জানতে সাহায্য করে।
নিজেকে চ্যানেল আইয়ের একজন উল্লেখ করে গুণী এই শিল্পী বলেন, ‘‘এই পরিবারেরই একজন হিসেবে অনেক কাজও করেছি। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে মিশে থেকেছি। যুগের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার তুলনা নেই। অনেক সময় নানারকমের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করেও তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। সব কাজের ক্ষেত্রেই তারা মানুষের উপকারকে গুরুত্ব দেয়, এটিই সত্যিকারের দায়িত্বশীলতা। চ্যানেল আই কৃষি নিয়ে যে অনুষ্ঠান করে তা আমাদের দেশের সব মানুষের জন্যই দারুণ উপকারের কাজ। শাইখ সিরাজের এই অনুষ্ঠানটি দেশে ও দেশের বাইরে এক অন্যরকম জাগরণ সৃষ্টি করেছে। এই অনুষ্ঠানটির সূচনা সঙ্গীতটিও আমি সৈয়দ আবদুল হাদীর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছি। কী সুন্দর কথা ‘আর ভেবো না বাংলাদেশ, নতুন খবর শোনো, দেশকে জানো, বিশ্বটাকে হাতের মুঠোয় আনো। এখানেও রয়েছে অন্যরকম প্রত্যয়। চ্যানেল আইয়ের এমন জনহিতকর বড় বড় কার্যক্রম রয়েছে। এ মুহূর্তে মনে পড়ছে তৃতীয় মাত্রা, ‘প্রকৃতি ও জীবন’, গানে গানে সকাল শুরু অনুষ্ঠানের কথা।’
এই তো সেদিনের কথা। চ্যানেল আই যাত্রা শুরু করলো। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে বিশ বছর। সত্যিই অবাক হচ্ছি। চোখের পলকেই যেন বহুদিন পেরিয়ে গেছে। আমার ভালো লাগে, এই সময়ের মধ্যে চ্যানেল আই মানুষের অন্তরে যত বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে, একটি গণমাধ্যম হিসেবে এই অর্জনটি মনে হয় বিরল।’’
১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই। যাত্রার ঠিক দুই বছর পর একই দিন চালু হয় চ্যানেল আই সংবাদ। অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই অনলাইন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ১ অক্টোবর দিনভর নানা আয়োজন রেখেছে চ্যানেল আই। যেখানে সমাজের সব অঙ্গনের বরেণ্যজনরা অংশ নেবেন।







