শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করবে চ্যানেল আই। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এ ধরণের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা গেলে শব্দ দূষণ কমানো সম্ভব।
নগরায়ন, শিল্পায়ন, মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম, যানবাহন, যান্ত্রিক অথবা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে শব্দের মাত্রা এখন অনেক ক্ষেত্রেই অসহনীয়, যা মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
শব্দ দূষণের কারণে মাথা ধরা, শ্রবণ শক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ নষ্ট, অনিদ্রাসহ নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য শব্দ দূষণ খুবই ক্ষতিকর।
শব্দ দূষণ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। আধা ঘন্টার এ অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আইতে প্রচার হবে প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে। এরকম উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের একটা বিধিমালা রয়েছে, শব্দ দূষণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বিভিন্নভাবে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিধিমালা পৌঁছাতে পারলে সবাই অনুধাবন করতে পারবে যে, এভাবে না করেও আমরা শব্দ করতে পারি।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, সকল মানুষ যদি উদ্যোগ গ্রহণ করে তবে একটি সুন্দর পরিবেশবান্ধব এবং দূষণমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতার বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এটা (চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান) অবশ্যই একটা শুভ উদ্যোগ। শব্দ দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর, যদিও আমরা তার সাথে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। এ উদ্যোগ জনগণের মধ্যে ভাবের তৈরি করবে যে এটা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবই অনেক ক্ষেত্রে শব্দ দূষণের জন্য দায়ী। একটু সচেতন হলেই শব্দ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।
মুকিত মজুমদার বলেন, সচিবালয়ের সামনে যে ধরণের শব্দ, এই শব্দ কিন্ত যারা এখানে কাজ করছে তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ভাবছি কীভাবে জনগণকে আরো সচেতন করা যায়, আর সে ধরণের একটি অনুষ্ঠান চ্যানেল আইতে প্রচার শুরু হবে।
শব্দ দূষণ নিয়ে চ্যানেল আইয়ের জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে যেমন একদিকে মানুষকে সচেতন করবে, তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।








