রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে প্রিমিয়ার লিগের দল চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এরপর চেলসি লিগ মৌসুম শেষ করলেও ক্লাবটি বিক্রি করতে পারেননি রাশিয়ান ধনকুবের। সবশেষ খবর, চেলসি বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হওয়ার পরপরই চেলসি বিক্রির ঘোষণা দেন আব্রামোভিচ। জানিয়েছিলেন, ক্লাব বিক্রির সমস্ত অর্থ দাতব্য সংস্থায় দান করবেন। যে অর্থে সহযোগিতা করা হবে ইউক্রেনে মানবিক সাহায্য প্রার্থীদের।
এরপর ক্লাবটি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে বেশ ক’জন ধনকুবের। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দর হেঁকেছিলেন আমেরিকান ব্যবসায়ী টড বোহেলি। ৪.২৫ বিলিয়ন ইউরোয় চেলসি কেনার পথে ছিলেন তিনি। কিন্তু সেসময় আব্রামোভিচকে ক্লাব বিক্রি করতে অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য।
বুধবার ইউকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাব বিক্রির ব্যাপারে সবুজ সংকেত আসে। সরকারের একজন মুখপাত্র চেলসি ঘিরে নেয়া সরকারের সিদ্ধান্ত জানান।
‘রাতে যুক্তরাজ্য সরকার এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে আমরা লাইসেন্স জারি করতে পারি। যা চেলসি ফুটবল ক্লাব বিক্রির অনুমতি দেয়। আব্রামোভিচ না থাকার পরও চেলসি ফুটবল চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছে সরকার।’
‘তবে আমরা স্পষ্টত জানি ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ কেবলমাত্র নতুন মালিকের অধীনে সুরক্ষিত হতে পারে। আমরা এখন সন্তুষ্ট যে বিক্রির সম্পূর্ণ আয় আব্রামোভিচ বা অন্যকোনো অনুমোদিত ব্যক্তিকে উপকৃত করবে না। আমরা এখন এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব যাতে ক্লাব বিক্রয়ের আয় ইউক্রেনে মানবিক কারণে ব্যবহার করা হয়।’
‘এখনকার পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করবে। চেলসিভক্ত এবং বৃহত্তর ফুটবল সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে। প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য আমরা প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে আলোচনা করেছি এবং তাদের সকল সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
২০০৩ সালে আব্রামোভিচ চেলসি কিনেছিলেন। তার অধীনে বহু সাফল্য রয়েছে ক্লাবটির। চলতি মৌসুমে ৩ নম্বরে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া এফএ কাপ ও কারাবাও কাপের ফাইনালে খেলেছে, যদিও লিভারপুলের কাছে হেরে গেছে দুবারই।







