কানাডার নাগরিক রবার্ট লয়েড শেলেনবার্গের বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে চীনের একটি আদালত।
মাদকদ্রব্য চোরাচালানের অভিযোগে ২০১৪ সালে ওই কানাডিয়ান নাগরিককে আটক করা হয়।
পরে তদন্ত ও শুনানি শেষে ২০১৮ সালে রবার্ট শেলেনবার্গকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল চীনের আদালত। কিন্তু দেশটির আপিল আদালত পরের বছর ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
দালিয়ান শহরের একটি আদালত আগের রায়ের সমালোচনা করে ২০১৯ সালে কানাডিয় ওই নাগরিককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। সে সময় দালিয়ান শহরের আদালত বলেছিল, তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ডাদেশ খুবই ‘দয়ালু একটি রায়’।
পরে দালিয়ান আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শেলেনবার্গ আপিল করেন এবং নতুন করে মামলার বিচারের আবেদন জানান। কিন্তু দালিয়ানের আদালত মঙ্গলবার কানাডীয় নাগরিকের আবেদন নাকচ করে দেয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, আগের বিচারে শেলেনবার্গের মামলার ব্যাপারে যে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছিল তা ছিল পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য। ফলে তার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে তা সঠিক। বরং নতুন করে মামলার রায় দেয়ার জন্য যে আবেদন জানানো হয়েছে সেটি অবৈধ।
মামলার কৌঁসুলিরা বলেছিলেন, শেলেনবার্গ হচ্ছেন আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানি সিন্ডিকেটের একজন মূল সদস্য। তিনি ২০১৪ সালে ২০০ কেজি মেথামফেটামিন অস্ট্রেলিয়ায় চোরাচালানের পরিকল্পনা করেছিলেন।
তবে শেলেনবার্গ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছেন, তিনি চীনে গিয়েছিলেন শুধুমাত্র একজন পর্যটক হিসেবে।
চীনে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত ডোমিনিক বার্টন জোরালো ভাষায় এই রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, রবার্ট শেলেনবার্গকে মুক্তি দিতে হবে।
চীন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ২২৭ কেজি মেথামফেটামিন পাচারের পরিকল্পনার অভিযোগে ২০১৪ সালে চীনা পুলিশ রবার্ট লয়েড শেলেনবার্গেকে আটক করে।
তার কয়েক সপ্তাহ আগে কানাডায় চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে’র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মেং ওয়াংঝু’কে গ্রেফতারের ফলে চীন ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়ান শুরু হয়ে।
নতুন এ রায়ের ফলে তা আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










