চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ ও মোকাবেলার লক্ষ্যে রাজধানীর মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর ৯২টি স্থানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়।
এ সময় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শিক্ষার্থীরা একটি স্বাস্থ্য বার্তা লিফলেট বিতরণ করেন। চিকুনগুনিয়া জ্বরের বাহক এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে এবং এ রোগ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে তারা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ প্রচারণা চালান।
ধানমন্ডি ১ নম্বর থেকে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যক্রম চালায় পপুলার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর শংকর থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর সরকারি, বেসরকারি সব মেডিক্যাল, ডেন্টাল কলজে, নার্সিং ইনস্টটিউিসহ সব ধরনের প্যারামেডিকেল ইনস্টটিউিট, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টটিউিট (ম্যাটস্) ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীরা এই সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জনিত জ্বর এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সেরে যায়, তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে।
‘এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বর্ষার সময় এ রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে, তাই এ সময় অধিক সর্তক থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় আমাদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের নিয়ে সবাই মিলে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, জনসেচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা সরাসরি মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের লিফলেট দিচ্ছি, এলাকায় কোন ডোবা নালায় জমে থাকা পানি থাকলে সেগুলো নষ্ট করছি, সিটি কর্পোরেশন এডিস মশা নিধনে ওষুধ দিচ্ছে। আশা করছি এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে রোগটি ছড়াবে না।
পপুলার মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল টি আই এম আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহন করেছি। পপুলার মেডিকেল কলেজের ছাত্র-শিক্ষকরা যৌথভাবে ধানমন্ডির বিভিন্ন রাস্তায় প্রতিটি বাড়িতে শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে এবং সরকার প্রদত্ত লিফলেট বিতরণ করছে। বাসা বাড়িতে এডিস মশা ডিম পারতে পারে এমন কোনো জায়গা থাকলে শিক্ষার্থীদের আমরা নির্দেশ দিয়েছি তা ধ্বংস করার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর লেকের আশেপাশে এডিস মশা নিধনে অংশগ্রহণ করেন।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয়:
- ঘরে এবং আশপাশে যেকোন পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি তিন দিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার জন্ম নিতে পারে না।
- ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ঘষে ঘষে পরিস্কার করতে হবে। ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা/নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, ব্যাটারী শেল ইত্যাদিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে।
- অব্যবহৃত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।
- দিনে অথবা রাতে ঘুমানো সময় অবশ্যই মশারী ব্যবহার করতে হবে।
ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন







