ঋতু পরিবর্তনের ফলে বর্ষার শুরুতে জ্বরে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক বিষয় হলেও চলতি মৌসুমে মশাবাহিত নতুন রোগ চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে বহু সংখ্যক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-‘আইইডিসিআর’ গত আড়াই মাসে জ্বর হওয়া মানুষের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৫ শতাংশের মধ্যেই চিকুনগুনিয়া রোগী পেয়েছে। এছাড়া চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ এবং এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে রাজধানীতে ৫০টি এলাকা চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মশাবাহিত এই ভাইরাসের বিস্তার আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়াতে দেখা গেলেও এর আগে বাংলাদেশে তেমন একটা দেখা যায়নি। রাজধানীর মহাখালিতে অবস্থিত আইইডিসিআর-এ ‘সেলোরজি’ পরীক্ষা ব্যতীত নিশ্চিতভাবে চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস সনাক্ত করার আর তেমন কোনো হাসপাতালও নেই। বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় উদ্যোগ থাকলেও তা পরিস্থিতির তুলনায় কম বলে মনে হচ্ছে। চিহ্নিত হওয়া মশার প্রজনন এলাকাগুলোতে ব্যাপক কোনো নিধন কর্মসূচিও তেমন একটা চোখে পড়েনি। তবে ডিএসসিসি’র স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে গত মাসের শেষ দিকে তারা সাত দিনব্যাপী ‘চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকারি উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন ছাপানোর পাশাপাশি ১৭ জুন সকাল ৯টা থেকে এই রোগ প্রতিরোধে ঢাকা মহানগরীর ৯২টি স্থানে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা চালাবেন বলে মোবাইল ফোন বার্তায় বলা হয়েছে। তাদের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, অনাকাঙ্খিত এই রোগ নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া রোগটি যেহেতু মশার মাধ্যমে ছড়ায় তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বাসা-বাড়ির আশেপাশে যাতে মশার বংশ বিস্তার না হয়, সে বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়া সরকারি প্রচারণা মেনে চলা এবং অপপ্রচারে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এই রোগ মোকাবেলা করা যেতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে নতুন এই ভাইরাস জ্বর প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।








