বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সড়কপথে যাতায়াতের পথ তৈরি হলে খুলবে অবাধ বাণিজ্যের পথ। কিন্তু একই সাথে বাড়বে প্রতিযোগিতার বাজারও। এই বাজারে টিকে থাকতে হলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের মান আরো বাড়াতে হবে বলে ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন।
তারা বলছেন, সড়ক পথ পরিবহন সহজ হবে বলে যেমন অন্যান্য দেশের অনেক পণ্য বাংলাদেশে আসবে, ঠিক তেমনই বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির সুযোগও বাড়বে অনেক।
থিম্পু চুক্তির পর বাংলাদেশ-ভারত চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই কানেক্টিভিটি নিয়ে কাজ করছিলাম। তাতে সেটা স্থলপথ, নৌপথ বা আকাশপথে যাই হোক না কেন? অবশেষে সেই চাহিদা পূরণ হলো।
তবে কেবল চুক্তি সই-ই নয়, সেটার সুযোগ-সুবিধা ঠিকভাবে পাওয়ার জন্যও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বলেই মনে করেন মোহাম্মদ আলী। বলেন, চুক্তির মাধ্যমে আমরা দেশের বাইরের বাজারে প্রবেশের পথতো পেলাম। কিন্ত সেই সুযোগকে আমাদেরই ঠিকমতো কাজে লাগাতে হবে। ট্যারিফ ও নন ট্যারিফ যেসব টুকটাক সমস্যা আছে, তার সমাধান টানতে হবে দ্রুত।
তিনি বলেন, বন্দরগুলোর চারপাশের এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না হলে দেশের মানুষ যেমন সহজে বাইরে যেতে পারবে না, তেমনই বিদেশী পর্যযটক বা পণ্যও সহজে আমাদের দেশে আসতে পারবে না। ফলে বাণিজ্য ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত চেম্বারের সভাপতি মনে করেন, সড়ক সংযোগের ফলে অবৈধ পথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমবে। কারণ, এখন পণ্য আমদানি বা রপ্তানি হবে সহজ পথে। এ কারণে অবৈধ পথে পণ্য যাতায়াতের পরিমাণ কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, কানেক্টিভিটি ছাড়া কোনো চুক্তি কখনো সফল হতে পারে না। আমরা যোগাযোগ যত বাড়াবো তত বেশি আমরা লাভবান হবো।
ইইউ এবং আসিয়ানের উদাহরণ টেনে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ওদের ‘নেইবারিং রিং’টা কিন্তু খুব জোরদার। সেটা আমাদের সার্কের ক্ষেত্রে গড়ে উঠেনি। ফলে আমরা সার্ক থেকে তেমন একটা সুফল পেতে সক্ষম হইনি।
‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আসিয়ানের মধ্যে যোগাযোগটা অনেক ভালো, ফলে তাদের লাভালাভের পরিমাণ বা বাণিজ্যের প্রসারটাও ভালো,’ উল্লেখ করে এফবিসিসিঅাই প্রেসিডেন্ট বলেন, চারদেশের মধ্যে এই সড়ক যোগাযোগ চুক্তির পর যদি আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়াই, তা হলে একসময় না একসময় এর সুফল আমরাই পাবো।
সিআইএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ওয়ালটন গ্রুপের হেড অব মার্কেটিং লোকমান হোসেন আকাশ অবশ্য সড়ক চুক্তির ফলে তৈরি বাজারকে ব্যাখ্যা করেন একটু ভিন্নভাবে।
তার বক্তব্য, রাস্তা উঁচু নিচু হলেই কিন্তু আপনি সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাবেন, কিন্তু রাস্তা যদি নির্বিঘ্ন হয় তাহলে আপনি ঘুমিয়েও যেতে পারেন। তাই নতুন সৃষ্ট এই প্রতিযোগিতার বাজার আমাদের বাণিজ্যকে নতুন করে জেগে উঠতে সাহায্য করলে ভালো এবং সেটা হবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন: এখন আমরা ভারতে তো বটেই, ভারতের ট্রানজিট ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানেও পণ্য পাঠাতে পারবো। ফলে আগে পণ্য রপ্তানিতে যেসব জটিলতা ছিলো তার অনেকটাই কমে আসবে। আমরা পাকিস্তান, চীন ও মিয়ানমারেও পণ্য রপ্তানি করতে পারবো সহজে।
লোকমান হোসেন বলেন, কেবল বাংলাদেশে ব্যবসা করলে দেখা যাবে আমরা অনেক সীমিত হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দেশের বাইরে পণ্য পাঠাতে পারলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবো। বুঝতেও পারবো বাজারের অবস্থা।
আগে নেপাল বা ভুটানে পণ্য পাঠাতে যে খরচ হতো এখন সেটা অনেকটাই কমে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানি বাজার অনেকাংশেই একমুখী ছিলো। প্রতিযোগিতার এই বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের বিকল্প বাজার তৈরি করতে হবে। এই চুক্তির ফলে সেটা সহজতর হলো।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, চুক্তি কার্যকর হলে আমরা নিজেদের যতোটুকু উন্নত করতে পারবো, বিশ্বের বাজারে আমাদের অবস্থান ঠিক ততোটাই দৃঢ় হবে।






