বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জমকালো এক আয়োজনে চার কিংবদন্তিকে সম্মাননা দিয়েছে চ্যানেল আই ও ওকে ওয়ার্ল্ড। এ আয়োজনের শিরোনাম ‘ওকে ওয়ার্ল্ড–চ্যানেল আই সম্মাননা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ফোর পয়েন্ট বাই শেরাটন হোটেলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও শিল্প–সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য শাহাদত চৌধুরী (মরণোত্তর), চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাওয়ার জ্যন চিত্রনায়িকা ববিতা, ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য সৈয়দ আলতাফ হোসেন এবং ফুটবলে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সহ-অধিনায়ক আইনুল হককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননার অংশ হিসেবে তাদেরকে উত্তরীয়, স্বর্ণপদক ও ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।
আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবংওকে ওয়ার্ল্ডের কাজী জসিমুল ইসলাম বাপ্পী।
ক্রীড়াঙ্গনের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রস্তাবক সাইদুর রহমান প্যাটেল, সানাউল আরেফিন, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ লিপু, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ, সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় জাভেদ ওমর বেলিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, চিত্রনায়িকা চম্পা, নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা, নাহিদ নওরীন জাহান প্রমূখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চ্যানেল আই অনেক ভালো ভালো কাজ করে। সকালেই চ্যানেল আইতে রবীন্দ্রসংগীত শুনছিলাম। তাইতো সকালটা শুরু হয়েছিল ফুরফুরে মেজাজে। এমনই একটি ভালো আয়োজন, আজকের এই কীর্তিমানদের সম্মান জানানো।’
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি ফুটবল খেলতাম। আমার প্রথম দল ইষ্ট এন্ড। তারপর খেলেছি সেন্ট্রাল স্টেশনারী ও ওয়ারীর হয়ে। সবশেষ মোহামেডানের হয়ে ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলেছি। পরে অবশ্য রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণে খেলা ছাড়তে হয়। তাই অনেক খুশী হয়েছি আইনুল হককে সম্মাননা জানানোর জন্য। খুশী হয়েছি সৈয়দ আলতাফ হোসেন ও অন্যান্যদের সম্মাননা জানানোতে।’

ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘কাজী জসিমুল ইসলাম বাপ্পী যখন শেয়ার করলেন সৈয়দ আলতাফ হোসেনের হাতে অনেক বড় বড় ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে। তাকে সম্মাননা জানানো যায় কিনা। তিনি একদম নির্জনে সময় কাটাচ্ছেন। বিষয়টি আমার পছন্দ হয়। প্রথমে মনে করেছিলাম তাকে নিয়ে টিভি চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করব। পরে আইনুল হক, শাহাদত চৌধুরী ও ববিতাকে যুক্ত করে সম্মাননা অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা করা হয়। এর পুরোটাই বাপ্পী আর আফজাল হোসেনের কৃতিত্ব।
কাজী জসিমুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল গুণীদেরকে যদি আমরা সম্মাননা না জানাই, তবে পরবর্তী প্রজন্ম তো সম্মান দিবে না। সেই ভাবনা থেকে আমি এই কীর্তিমানদের সম্মাননা জানানোর পরিকল্পনা করি।’

সৈয়দ আলতাফ হোসেনের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন সানাউল আরেফিন। সোনার মেডেল ও চেক তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর। এ সময় সৈয়দ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সম্মাননা দেওয়ার জন্য চ্যানেল আই আর ওকে ওয়ার্ল্ডকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে যেন ক্রিকেটারদের এভাবে সম্মান জানানো হয়।’
আইনুল হককে উত্তরীয় পরিয়ে দেন খন্দকার জামিল উদ্দিন। সোনার মেডেল ও চেক তুলে দেন নাহিদ নওরীন জাহান।
প্রয়াত সাংবাদিক শাহাদত চৌধুরী পক্ষে সম্মাননা নেন তার স্ত্রী সেলিনা চৌধুরী। তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি সোনার মেডেল ও চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শাহাদত চৌধুরীর পরিবার। পরিবারের পক্ষে প্রয়াতের বড় মেয়ে শাশা চৌধুরী বলেন, ‘কেউ যখন বাবাকে সম্মান জানায়, তখন মনে অনেক আনন্দ লাগে। বাবা বেঁচে থাকতে প্রতি জন্মদিনে চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে কেক পাঠাত বাসায়। বাবা সেই কেকের অপেক্ষায় থাকতেন।’

সবশেষে ববিতাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি তাকে সোনার মেডেল ও চেক তুলে দেন। এ সময় মঞ্চে ছিলেন ববিতার ছোট বোন চিত্রনায়িকা চম্পা, নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা, নাহিদ নওরীন জাহান।
ববিতা বলেন, ‘আমি সেই পুতুল খেলার বয়স থেকেই চলচ্চিত্রে আছি। দেশ স্বাধীনের পর বিশ্বে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি। বিশ্বখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় অভিনয় করে আমার ভাগ্য খুলে গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এ দেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেছি। চলচ্চিত্রের অনেক পুরস্কার এমনকি লাইফটাইম এচিভমেন্টও পেয়েছি আমি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি সে বিষয়টি নিয়ে কেউ বলেনি। কেউ সম্মান জানায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান আমাকে সম্মান জানালো বাংলাদেশের জন্য অবদান রাখায়। এজন্য অত্যন্ত আনন্দিত আমি।’
কণ্ঠশিল্পী অণিমা রায়ের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন








