চীনের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঝাং গাওলির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন পেং শুয়াই। নতুন খবর, আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন টেনিস তারকা। এমনকি যৌন হয়রানির অভিযোগ ও নিখোঁজ হওয়াকে রীতিমতো অস্বীকার করে বসেছেন পেং।
রোববার সিঙ্গাপুরের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মেয়েদের ডাবলসের সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা ৩৫ বর্ষী পেং দাবি করেছেন, তিনি সবসময়য়ই মুক্ত ছিলেন।
ওইবোতে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে পেং বলেছেন, ‘প্রথমত, আমাকে একটি বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি কখনো বলিনি বা লিখিনি যে কেউ আমাকে যৌন নির্যাতন করেছে। আমার এই বিষয়টিকে খুব স্পষ্টভাবে জোর দেয়া দরকার।’
পেং তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে- এমন বিষয়ও অস্বীকার করেছেন, ‘কেন কেউ আমার উপর নজর রাখবে? আমি সবসময় খুব মুক্ত ছিলাম।’
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে আগের দেয়া ভিডিও পোস্ট ডিলিট করাকে ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে পেং জানান, এটা নিয়ে মানুষের ভেতর অনেক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে।
উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউটিএ) সভাপতি চেয়ারম্যান স্টিভ সিমন এবং মানবাধিকার কর্মীরা পেংয়ের এমন বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে যদিও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ডব্লিউটিএর এক মুখপাত্রের মতে, সর্বশেষ এই বার্তা দেয়ার পর এখন পর্যন্ত পেং কারো সাথেই স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করতে সক্ষম হননি।
মানবাধিকার আইনজীবীদের মতে, চীনা কর্মকর্তারা তাকে রিহার্সাল করা ভিডিওতে উপস্থিত হতে বাধ্য করেছে বলে মনে হচ্ছে। ভিডিওতে পেং যখন চীনা ভাষায় বলছিলেন, তারপরে কেউ তাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে সাহায্য করেছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ টুইটারে লিখেছেন, ‘পেংয়ের সর্বশেষ বিবৃতিতে বোঝা যাচ্ছে চীনা সরকার তাকে চাপের মুখে রেখেছে, যা উৎকণ্ঠাকে আরও জোরাল করছে।’







