ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এপিজে আব্দুল কালাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর।
শিলংয়ের একটি কলেজে ভাষণ দেয়ার সময় বুকে প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব করলে দ্রুত তাকে বেথানি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তাঁর হাত ধরেই পরমাণুশক্তির মালিক হয়েছিলো ভারত। তাঁর মৃত্যুতে এক রত্ন হারালো ভারত।
“এতদিন পর্যন্ত আমি ভাবতাম আমাদের সামনে বাধাবন্ধনহীন অসীম সম্ভাবনা। এখন মনে হল, একটা বেশ বড় সীমাবদ্ধতা আছে। জীবনে অনেক সীমারেখা থাকে। কতটা ওজন তুলতে পারবো তার সীমা আছে, কত দ্রুত শিখতে পারি তার সীমা আছে। কত পরিশ্রম করতে পারি তার সীমা আছে, কতদূর যেতে পারি তারও সীমা আছে।”
আত্মজীবনী ‘উইংস অব ফায়ার’ এ এভাবেই নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন সদা হাস্যময় মানুষটি।
আজ অসীমের দেশেই পাড়ি জমালেন তিনি। ভারতের একাদশতম রাষ্ট্রপতি ছিলেন এপিজে আব্দুল কালাম। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি।
তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে ১৯৩১ সালে জন্ম তাঁর। উচ্চ শিক্ষায় পদার্থবিদ্যা ও মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে পড়েন তিনি। পড়াশোনা শেষ করার পর প্রায় চার দশক ধরে ভারতীয় বিজ্ঞান জগতে অবদান রেখে গিয়েছেন।
ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অরগানাইজেশনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও মিসাইল তৈরির প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ‘ভারতের মিসাইল ম্যান’ আখ্যা দেওয়া হয়।
১৯৯৮ তে পোখরান পরমাণু পরীক্ষার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। অনেকদিন পর পরমাণু পরীক্ষায় এসেছিলো সাফল্য।
বিজ্ঞানের জগতের এই নক্ষত্রকে রাজনীতির আকাশ পায় ২০০২ সালে। বিজেপি ও কংগ্রেস ভারতের দুই প্রধান দলের সমর্থনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বেশির ভাগ সময়। অনেক লেখা লিখেছেন তাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য। দেশের ছাত্র সম্পদকে দিশা দেখাতে লিখেছেন বেশ কয়েকটি বই। তাঁর কিছু বিখ্যাত বই ‘ইন্ডিয়া ২০২০’, ‘ইগনাইটেড মাইন্ডস’।
তাঁর আত্মজীবনী ‘উইংস অফ ফায়ার’। ছাত্র সমাজ দিয়ে আদর্শ জাতিগঠনে তিনি ছিলেন সদা তৎপর। সেই ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই চিরতরে ঘুমের দেশে চলে গেলেন উপমহাদেশের গর্ব এপিজে আব্দুল কালাম।
তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।







