জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার সকাল থেকে চলছে নানা আয়োজন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসেন নায়করাজ রাজ্জাক। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন বর্তমান চলচ্চিত্র আর শিল্পীদের নিয়ে।
পঞ্চমবারের মতো চলচ্চিত্র দিবস পালিত হচ্ছে।
খুব ভালো লাগছে। বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রকে সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এর উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। সাজসাজ রব আমার প্রিয় এই এফডিসিকে দেখে খুব আনন্দ হচ্ছে। কিন্তু কান্নাও পাচ্ছে।
কেন?
কেন হবে না। আমরা যখন চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন কি এফডিসি এত পরিপূর্ণ ছিল। আজ কত উন্নত হয়েছে সবদিক দিয়ে। অথচ এখন চলচ্চিত্র কর্মীদের অনেককেই দেখছি চলচ্চিত্রের প্রতি নুন্যতম ভালোবাসা নেই। নাহলে আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস, জুনিয়র শিল্পীদের অনেকেই উপস্থিত আছেন। কিন্তু যারা পরিচিত মুখ, তাদের দেখা নেই। বিশেষ করে যারা নায়িকা তারা আজ কোথায়। তাদের কাউকে দেখছি না। তবে কি তাদের চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা নেই? আসলে চলচ্চিত্রকর্মীদের অনেকের মধ্যেই নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে।
সমস্যা কোথায়?
সমস্যা শেঁকড়ে। জীবনে তো স্ট্রাগল কী ওরা জানে না। সবকিছু তৈরি পাচ্ছে। অনেকের অভিনয়েরও কোনো যোগ্যতা নেই। এরা যদি পরিচিত আর ব্যস্ত নায়িকা হয়ে ওঠে, তাহলে চলচ্চিত্রের কী হাল হবে, ভাবতেই পারছি না।
এই সমস্যা সমাধানের উপায় কী?
এখন আর কী হবে! সবাই তো দৈহিক সৌন্দর্য আর বাকপটুতায় যার যার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। এদেরকে তো বাদ দেওয়া যাবে না। এমনিতেই চলচ্চিত্রে শিল্পী সংকট রয়েছে। এ সময় তাদের বাদ দিলে মহাসংকট তৈরি হবে। অনুরোধ করব তাদের প্রতি, যাদের চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা কম, তোমরা চলচ্চিত্রকে ভালোবাসো। নয়তো একদিন, দুদিন তারপর তোমরাও হারিয়ে যাবে। তাই চলচ্চিত্রকে ভালোবাসার বিকল্প নেই। আর নতুন যারা আসবে তাদেরকে যোগ্যতা বিচার করেই নিতে হবে।

চলচ্চিত্রে আসতে হলে কোন যোগ্যতাগুলো খুব প্রয়োজন?
একটা সময় ছিল যখন অভিনয় না শিখেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করা যেত। তবে আমরা যারা এসেছিলাম, তাদের মধ্যে চলচ্চিত্রের প্রতি দারুণ নেশা ছিল কিংবা ভালোবাসা ছিল। দিনের পর দিন না খেয়ে চলচ্চিত্রে সময় দিয়েছি। আমি তো একজন চাওয়ালা হিসেবে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। অভিনয়টা সবাই শিখে আসে না। কিন্তু আন্তরিকতা দিয়ে দ্রুত তা রপ্ত করে নিয়েছি। মনের মধ্যে অনেক হতাশা ছিল কিন্তু সুন্দর আগামী তৈরির স্বপ্নে বিভোর থাকার কারণে সেই হতাশা মাথায় বেশিক্ষণ রাখিনি। সবাই চলচ্চিত্রে বড় সুযোগ পায় না। যারা পায়, তাদের সে অবস্থানটা মজবুত করা দরকার। আর তা যোগ্যতা দিয়েই করতে হবে। আমাদের সময়ে এটা ছিল। এখনো আছে তবে সেটা সীমিত পর্যায়ে।
বর্তমান চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে কিছু বলুন।
অনেক সমস্যা আছে আমাদের চলচ্চিত্রে। সরকার চেষ্টা করছে তা দূর করতে। ‘চলচ্চিত্র নীতিমালা বিল’ একনেকে পাশ হবে। ভালো লেগেছে শুনে। এই বিলে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অনেক কিছুই যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের উন্নয়নের চিন্তা করলে কী হবে, চলচ্চিত্রকর্মীরা তো সেভাবে ভাবছে না।
তারা কী ভাবছেন?
এই যে দেখছেন, আজকে চলচ্চিত্র দিবসে কজন পরিচিত মানুষ এসেছে। বর্তমান প্রজন্ম তো নেই বললেই চলে। তাদের মধ্যে চলচ্চিত্রের প্রতি কোনো ভালোবাসা আছে? সবাই খালি চলচ্চিত্রের সংগঠন সংগঠন খেলছে। কিন্তু উন্নয়নের বেলায় শূণ্য। নাহলে নির্বাচন যায় আসে। চলচ্চিত্রের নেতা আসে যায়, কই চলচ্চিত্রের তো উন্নয়ন হয় না? বরং বিদেশি চলচ্চিত্র আমাদের খেয়ে ফেলছে।
বিদেশি ছবি কীভাবে ধ্বংস করছে?
ওই যে যৌথপ্রযোজনার নামে ওরা অনেক টাকার মালিক। তাদের সঙ্গে ব্যবসা করে আমরা পারব। কখনোই না। এটা আমাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝছে না। কিংবা বুঝতে চাইছে না।
ছবি : সংগৃহীত








