সাম্প্রতিক ঝাঁকুনির পর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সৌদি আরবের অর্থনীতি। তেলের দাম কমে যাওয়ায়ে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি বেশ সংকটে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, তেলের দাম নিম্নমুখী হওয়া সত্ত্বেও সৌদি ব্যাংকগুলো তা ভালভাবে সামাল দিচ্ছে।
সৌদি আরবের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থার উপর পর্যবেক্ষণ করে লন্ডনভিক্তিক অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপিটাল ইকোনোকিক্স’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনের বরাতে এই খবর দিয়েছে আরব নিউজ।
‘ক্যাপিটাল ইকোনোকিক্স’র মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অথীনীতিবিদ জেসন টারভে বলেন, ‘আমরা মনে করি, বিভিন্ন খাতে আসছে বছরই চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করার জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হবে।’
এক বিবৃতিতে ক্যাপিটাল ইকোনোমিক্স জানায়, ‘সৌদি অর্থনীতির জন্য খারাপ বিষয়গুলো সম্ভবত শেষ। পাবলিকক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে যে প্রণোদনা দেওয়া হতো তাতে কাটছাট করা হয়েছে এবং আমরা আশা করছি আগামী বছরই সমস্যা সমাধন হয়ে যাবে। এই জন্য সৌদি অ-তেল খাতগুলোকে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার সমর্থন করা উচিত।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বন্ড সাক্ষর করেছে, যা এই সংকট উত্তরণে সহায়তা করবে-বলেও জানায় ক্যাপিটাল ইকোনোমিক্স।
তবে সংস্থাটি এও জানায় যে, একই সময় কিছু বেসরকারি ব্যাংক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
ক্যাপিটাল ইকোনোমিক্স জানায়, আগামী বছরের শুরুর কয়েক মাসে প্রত্যাশিত সম্পদ বৃদ্ধির হার ৬ জায়গায় দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর দেশটির অর্থনৈতিক সমস্যার খবর প্রকাশের সময় আবাসন ক্ষেত্রের্ ঋণের হার ছিল ৮ শতাংশ। যেটা আবার চাঙা হয়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বিক্রির পরিকল্পনা তাদের। ডলারভিত্তিক বন্ডের ম্যাচুরিটির মেয়াদ হবে যথাক্রমে পাঁচ বছর, ১০ বছর ও ৩০ বছর। বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ম্যাচুরিটির মেয়াদ নির্ধারিত হবে।
৫ ও ১০ বছরের বন্ডের প্রতিটির থেকে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ৩০ বছরের বন্ডটির ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা দেশটির।
গত বছর দেশটির বাজেটে ঘাটতি ছিলো ৯৭ বিলিয়ন ডলার। যার ফলে দেশটির সরকার ভর্তুকি, বেতন এবং খরচ কমাতে বাধ্য হয়।







