বিশ্বকাপ ফুটবল- দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ; স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ রাতে। প্রথমবারের মতো আয়োজক রাশিয়া স্বাগতিক হওয়ায় আত্মবিশ্বাসী, এছাড়াও তাদের প্রায় সব খেলোয়াড়ই দেশের লিগে খেলেন বলে আলাদা একটা সুবিধা পাবে। অন্যদিকে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ আসরে খেলতে আসা সৌদি আরব ময়দানে ছেড়ে কথা বলবে না।
শুরুতে আসা যাক স্বাগতিক রাশিয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭০ নম্বরে রাশিয়া, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দল গুলোর মধ্যে শেষ থেকে প্রথম। ১৯৯০ সালে রাশিয়া বিভক্ত হওয়ার পরে অবশ্য রুশদের পারফরম্যান্স তেমন ভালো নয়। ১৯৯৪, ২০০২ ও ২০১৪ সালে গ্রুপ স্টেজ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
তবে এবার গ্রুপ পর্ব অনুযায়ী খুব কঠিন অবস্থানে নেই রাশিয়া, অতীতে স্বাগতিক দলকে আরো বেশি শক্তিশালী গ্রুপে থেকে লড়াই শুরু করতে হয়েছিল। বর্তমান দলটি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নেমে গেছে ৬৬তম অবস্থানে। এই নিয়ে এগারোবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে রাশিয়া।
বর্তমান দলটির কোচ স্তানিস্লাভ চেরচেসভ ও অধিনায়ক গোলরক্ষক ইগোর আকিনফিভ।
রাশিয়া দলের মূল প্লাস পয়েন্ট দলের সব খেলোয়াড়ই দেশের লিগের খেলেন। ফলে ঘরের মাঠ ও পরিবেশের সঙ্গে খুবই পরিচিত।
গোলরক্ষকের ভূমিকায় দলনেতা আকিনফিভ যেমন রয়েছেন তেমনই রক্ষণে গ্রানাট, সেমেনোভ, মাঝমাঠে গোলোভিন, জিরকোভ সেমডোভ রয়েছেন। আর আক্রমণভাগে স্মোলোভ, মিরানচুক, আর্টেম জুবারা রয়েছেন।
তবে ইনজুরির জন্য আক্রমণভাগের আলেক্সান্ডার কোকোরিন, রক্ষণের জর্জি ঝিকিয়া, ভিক্টর ভাসিনের মতো খেলোয়াড়রা ছিটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে পারে স্বাগতিকরা।
দলটির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আর্টেম জুবা জানিয়েছেন, আমরা বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ফেভারিট নই, তবে আমরা গ্রুপ পর্বে নিজেদের সেরাটা দেব, কারণ আমরা ফুটবল খেলতে পারি, নিজেদের ঘরে খেলা বিধায় ফুটবল দিয়ে দেশ ও জাতিকে গর্বিত করার সময় এসেছে।
ইউরো ২০১৬’র পর কোচ স্তানিস্লাভ চেরচেসভের অধীনে থাকা দলটির ফলাফলকে কোনভাবেই ইতিবাচক বলা যাবেনা। তার অধীনে দলটি ৫ ম্যাচে জয় ও ৫টিতে ড্রয়ের বিপরীতে হেরেছে আট ম্যাচে।
সৌদির ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭, বিশ্বকাপ সফলতার দিক থেকে রাশিয়ার চেয়ে এগিয়ে তারা। ১৯৯৪ সালে শেষ ষোলোতে গিয়েছিল মধ্য প্রাচ্যের দেশটি। ওই আসরে গ্রুপপর্বে নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র করে তারা।
এরপর ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ সালে আরো তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছে সৌদি আরব। তবে পার হতে পারেনি গ্রুপ পর্ব। সাউথ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দুই বিশ্বকাপে অবশ্য অংশগ্রহণই করতে পারেনি তারা।
দলটির কোচ জুয়ান আন্তোনিও পিজ্জি ও অধিনায়ক রক্ষণভাগের ওসামা হাউসাউই।
আল আবেদ, মোহাম্মদ আল-সাহলায়ি, ফাহাদ আল-মুয়াল্লাদ ও ইয়াহিয়া আল-শেহরিদের এই তিনজনের উপরেই সৌদির সবচেয়ে বেশি ভরসা। আল আবেদ কোয়ালিফায়ার ম্যাচগুলিতে পাঁচটি গোল করে দলকে মূলপর্বে তুলেছেন। অন্যদিকে ফাহাদ আল-মুয়াল্লাদ দলকে ভরসা জোগাচ্ছেন।
বাছাইপর্বে বেশ কঠিন গ্রুপের বাঁধা অতিক্রম করে এসেছে সৌদি আরব। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জাপানের চেয়ে এক পয়েন্ট কম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলটি গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করে।







