জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে জনমত তৈরি হয়েছে তার মাধ্যমেই দেশ থেকে
জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা।
জাতীয় সংসদে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ওপর নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে
আলোচনায় তিনি বলেছেন, জঙ্গিরা মানবতার শত্রু, সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই তাদের
উৎখাত করা সম্ভব।
গুলশান হামলার ঘটনায় সব বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে বলেও সংসদে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।
সংসদে গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট, শোলাকিয়া, পবিত্র মদিনা, ফ্রান্সের নিস শহর ও আমেরিকায় জঙ্গি হামলায় ১৪৭ বিধিতে আনা নিন্দা প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর সহযোগিতায় অবশ্যই এই সন্ত্রাসীদের মূল উৎপাটন হবে। ইতোমধ্যে এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও জনমত সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ। এদেশ থেকে অবশ্যই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অবসান হবে। যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে তা দেশকে জঙ্গিমুক্ত করতে পথ দেখাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, গুলশানে দুইজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং র্যাব ও পুলিশের অনেক সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ বাহিনী জীবন দিয়ে হামলাকারীদের মোকাবেলা করেছে। তাদের অবদান চির স্মরণীয়। পরে সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীর কমান্ডো বাহিনী কয়েক মিনিটের মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি যেকোন ধরনের সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘২০ জনকে সন্ত্রাসী খুনিরা হত্যা করেছে। ১৩ জনকে উদ্ধার করা গেছে। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।’
পবিত্র কুরআন ও হাদিসের উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তারা বেহেস্ত পাওয়ার জন্য
মানুষ খুন করছে। যারা এসব করছে তারা জান্নাত তো দূরের কথা জাহান্নামও পাবেন
না। তারা পবিত্র ধর্ম ইসলামকে এসব কর্মকাণ্ড করে সারাবিশ্বের কাছে হেয়
প্রতিপন্ন করছে।’
শোলাকিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল বলে আইন-শৃংখলা বাহিনী সতর্ক ছিল। শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রায় এক মাইল দুরে চেক পোষ্টে সন্ত্রাসীরা হামলা করে। সেখানেও দুইজন পুলিশ নিহত হয়েছে। একজন নিরীহ নারী জীবন দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ঘটনাকে আমরা স্বাভাবিকভাবে নেইনি। এর মূল উৎপাটনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক তথ্য পাওয়া গেয়ে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কমিটি করে জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করারও আহ্বান জানান।
সরকারী দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
এ নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে সংসদ সদস্যরা জঙ্গিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।







