সিলেট থেকে: বিমানবন্দর সড়কের একপাশে স্টেডিয়ামের ফলক। সেটি ধরে সামনে এগোলেই দুপাশে চা বাগান। কিছুটা পথ পেরলে স্টেডিয়ামের মূল আঙিনায় প্রবেশের সুবিশাল ফটক। পূর্ব পাশের চা বাগান যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু বাঁশঝাড়। পুরো স্টেডিয়ামকে ঘিরে রেখেছে ঘন বন। প্রতীকী হিসেবে সবুজকে তুলে ধরতে স্টেডিয়ামের ভেতরে বানানো হয়েছিল গ্রিন গ্যালারিও। অথচ সেখানে সবুজের উপস্থিতি নেই মোটেও!
ভেতরে নান্দনিক কাঠামো আর বাইরে ছায়াশীতল প্রাকৃতিক পরিবেশ। পাহাড়, চা বাগান, ঘন বনের মাঝে দাঁড়িয়ে অনিন্দ্য সুন্দর গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, মিডিয়াবক্স, ক্লাব হাউজ। অথচ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যেটি চোখ কেড়ে নেয়ার কথা ছিল, সেই গ্রিন গ্যালারিই বিবর্ণ।
গত বছর বিপিএলের ম্যাচ হয়েছে এখানে। পরে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টি-টুয়েন্টি সিরিজের ভেন্যুও ছিল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। তখনই দেখা গিয়েছিল গ্রিন গ্যালারি ঘাস বাদামী রূপ ধারণ করেছে। ভেন্যুটি যখন টেস্ট অভিষেকের দ্বারপ্রান্তে, তখন পাহাড়ের মাটি ও ধূসর ঘাস মিলে গ্রিন গ্যালারি হয়ে পড়েছে জীর্ণ।
সৌন্দর্য তো বটেই দর্শকদের আয়েশ করে খেলা উপভোগের ব্যবস্থা করতেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ স্টেডিয়ামগুলোতে বানায় গ্রিন গ্যালারি। অথচ সিলেটে দুটি জিনিসই অনুপস্থিত। সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দেখা মেলে গ্রিন গ্যালারি ঢালু। সবুজ গালিচায় বসে কিংবা শুয়ে খেলা দেখেন দর্শকরা। সিলেটের গ্রিন গ্যালারি এতটা খাঁড়া, থেকে যায় দুর্ঘটনার শঙ্কাও। কংক্রিটের গ্যালারি যেমন সিঁড়ির মতো হয়, এখানকার গ্রিন গ্যালারিও পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে তারই আদলে।
দর্শক-সুবিধা যে এখানে অনুপস্থিত সেটি একবাক্যেই স্বীকার করলেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এই মাঠের অভিষেক টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে করেন বিসিবির এ পরিচালক। প্রশ্নোত্তর পর্বে উঠে আসে গ্রিন গ্যালারির প্রসঙ্গ।
‘এই জায়গায় কিছুটা ব্যাত্যয় হয়েছে। সেটা যেভাবেই হোক হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে হয়তো পারব না এটির কাজ ধরতে। আউটার স্টেডিয়ামের কাজ যখন শুরু হবে তখন হয়তো করা যাবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি যে, গ্রিন গ্যালারি যাতে গ্রিন গ্যালারির মতো হয়। সিঁড়ির মতো হওয়ার কারণে এর পরিচর্যা করতে আসলে বেশ অসুবিধা হয়। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের নিচে যেমন ঢালু সারি রয়েছে, ওরকম করে তৈরির জন্য অনুরোধ করেছি। তখন আরও দর্শক বসতে পারবেন এবং নিরাপদে খেলা দেখতে পারবেন। তখন আসলেই ওটাকে গ্রিন হিসেবে দেখানো যাবে।’
৩ নভেম্বর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ দিয়ে দেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। স্মরণীয় করে রাখতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। সিলেট বিভাগের হয়ে যারা বাংলাদেশ দলে টেস্ট খেলেছেন সেই ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অভিষেকের মঞ্চে। দুই দলের ক্রিকেটার, অফিসিয়ালরা পাবেন শুভেচ্ছা স্মারক। টসের জন্য বানানো হয়েছে বিশেষ কয়েন। যেটি স্মারক হিসেবে থেকে যাবে সংগ্রহে। এছাড়াও ম্যাচ রেফারি বাজাবেন ঘণ্টা।
আগেও ঘটা করে দেশের আগের সাতটি ভেন্যু অভিষিক্ত হয়েছে। তবে মিরপুর, চট্টগ্রাম ছাড়া কোনো ভেন্যুতেই নিয়মিত হয় না টেস্ট। বগুড়ায় লম্বা সময় ধরে টেস্ট হচ্ছে না। ২০১৫ সালের পর টেস্ট হয়নি খুলনা, ফতুল্লায়। যে কারণে প্রশ্নটি এসেই যায়, ভবিষ্যতে সিলেটেরও একই হাল হবে না তো!
শফিউল আলম চৌধুরী জানালেন সেই শঙ্কা সিলেটের বেলায় নেই। কেনো নেই তার কারণও ব্যাখ্যা করেন সিলেটের অভিজ্ঞ এ ক্রীড়া সংগঠক।
‘শুধু ক্রিকেটের জন্য এ স্টেডিয়ামটি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। স্টেডিয়ামের পাশেই আগামী মাসে আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং আউটার স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন বিল্ডিংটার কাজও অচিরেই শুরু করতে পারব। আবাসন-যোগাযোগ কিন্তু একটা ভেন্যুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে বিবেচনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট খুব সুবিধাজনক জায়গায় আছে। যে কারণে আমি মনে করি সিলেট ভেন্যুর ভবিষ্যৎ ভালই হবে।’
‘এছাড়া স্টেডিয়ামটি নিয়ে বিসিবির যে আন্তরিকতা রয়েছে, সাধারণ মানুষ ও মিডিয়ার যে আগ্রহের জায়গা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি মনে করি না সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটি অলস বসে থাকবে। প্রতিটা সিরিজেই আমরা হয়তো এখানে কোনো না কোনো ম্যাচ পাবো। আমাদের এটিও মনে রাখতে হবে, যতবেশি ভেন্যুতে খেলানো যাবে আমাদের ওই অঞ্চল বা ভেন্যু সচল থাকবে। আমি মনে করি শুধু ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম নয়; অন্যান্য ভেন্যুতে নিয়মিত না হলেও মাঝে মাঝে বিদেশি দল আসলে যেন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়।’







