অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ হয়েছে শান্তনু চৌধুরীর তিনটি বই। এগুলো হলো, ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতা, সংবাদ ও সম্পাদনা’। বইটি প্রকাশ করেছে উৎস প্রকাশন। বইটি পাওয়া যাচ্ছে নয় নম্বর প্যাভিলিয়নে। টেলিভিশন সাংবাদিকতা, সংবাদ ও সম্পাদনা বইয়ের মূল্য ২৪০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।
প্রেম ও প্রেমহীনতার উপন্যাস ‘রসিকা’ প্রকাশ করেছে পার্ল পাবলিকেশন্স। প্যাভিলিয়ন নাম্বার ছয়। দাম ২৫০ টাকা। প্রচ্ছদ নিয়াজ চৌধুরী তুলি।
মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনা নিয়ে উপন্যাস ‘সূর্যোদয়ের আগে’ প্রকাশ করেছে বেহুলা বাংলা। স্টল নম্বর: ১৭৩-১৭৪। দাম: ১৬৪ টাকা। প্রচ্ছদ আবু হাসান। সবগুলো প্রকাশনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
টেলিভিশন সাংবাদিকতা, সংবাদ ও সম্পাদনা বই প্রসঙ্গে শান্তনু চৌধুরী বলেন, ‘সময় এখন টেলিভিশন সাংবাদিকতার। সাহসী ও আলোচিত পেশা বলা যায় এটিকে। তরুণ-তরুণীরা নিজেকে মেলে ধরার জন্য ঝুঁকছেন এই পেশায়। তুলে আনছেন তৃণমূল থেকে আলোচিত নানা প্রতিবেদন। হাতে বুম, কাঁধে ব্যাকপ্যাক, ট্রাইপড, ক্যামেরা নিয়ে একেক জন ছুটে চলছেন এখান থেকে সেখানে। নিরন্ন মানুষ থেকে বিপন্ন মানুষ। সন্ত্রাসের শিকার থেকে শিকারি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে বিশ্বমোড়ল। দেশ থেকে বিদেশ সবখানেই সরব উপস্থিতি টিভি সাংবাদিকদের।
প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতা তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক জ্ঞান। যারা শুরুতে টিভি সাংবাদিকতায় আসতে চান তাদের সহযোগিতার জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানা-বোঝার জন্যই এই বই লিখেছেন শান্তনু চৌধুরী। এতে চেষ্টা করা হয়েছে তাত্ত্বিক আলোচনা কম করে বাস্তবে যা হয় তা তুলে ধরতে। বইটি মনোযোগের সঙ্গে পড়লে একজন তরুণ সত্যিকার অর্থেই নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন আগামী দিনের সফল সাংবাদিক হতে।
প্রেম ও প্রেমহীনতার উপন্যাস ‘রসিকা’ নিয়ে তিনি বলেন, রসিকার জীবন ঘুরপাক খায় আলো-আধারিতে। জীবন থেকে উঠে আসা রসিকা একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় জীবনকে সাজাতে চায়। ওর পাশে এসে দাঁড়ায় এক পথিক। জীবনের অমৃতের সন্ধান দেন যিনি। কিন্তু জীবন কি ওকে সহজে ছাড় দেয়। ওর চলার পথের প্রতিটা বাঁকে বাঁকে অপেক্ষা করে চমক। সেখানে ঝড়-ঝঞ্ঝা আসে। আঘাত আসে। থাকে কতো উলট-পালট গল্প! নিজের ভুল থেকে, ব্যর্থতা থেকে রসিকা শিখতে চেষ্টা করে। পাথর চূর্ণ-বিচূর্ণ করে, স্বপ্ন আর প্রত্যয়ে এগিয়ে চলে ও। কিন্তু সমাজের লোভাতুর পুরুষগুলো তাকে সহজে উঠে দাঁড়াতে দেয় না। লোভ, প্রেম লালসা একের পর এক ঘিরে ধরে ওকে। তাহলে কি ও হারিয়ে যাবে জীবন থেকে? নাকি বুকের গম্বুজে ছলনা আর প্রেমের আশ্রয় নিয়ে রসিকা একের পর এক টপকাবে সাফল্যের সিঁড়ি।
মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনা নিয়ে উপন্যাস ‘সূর্যোদয়ের আগে’। যুদ্ধ বদলে দেয় সময়কে। বদলে দেয় মানুষকে। যাপিত জীবনে ঘটে ছন্দপতন। ক্ষুধার তাড়নায় মায়ের কোলে মরছে শিশু।
পথে পথে লাশের সারি। ছিঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে শকুন। পাকিস্তানি সেনাদের পৈশাচিক উল্লাসের কাছে হার মানে মানবতা। খুনেরও রয়েছে ভয়ংকর রূপ। ছেলের রক্তে স্নান করানো হয়েছে মাকে। সন্তানের সামনে হয়েছেন ধর্ষিতা। জীবন বাঁচাতে বোনকে তুলে দিতে হয়েছে জানোয়ারের হাতে। ‘গণিমতের মাল’ হিসেবে তরুণীদের শরীর নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে পাক হায়েনারা। কেউ কেউ শরণার্থী হয়ে ছেড়েছেন দেশ। কেউ ফিরেছেন। কেউ ফিরতে চেয়েও পারেননি। এসব নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস সূর্যোদয়ের আগে। ১৬ ডিসেম্বরকে যদি স্বাধীনতার সূর্যোদয় ধরি তবে এর আগেই হিংস্র উন্মত্ত পাকিস্তানিরা এদেশের দোসর রাজাকার, আলবদরদের সহায়তায় ঘটিয়েছে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ।
এসবের মধ্যেও কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। দেশমাতৃকার জন্য জীবন দিতে কুণ্ঠিত হননি এতোটুকু। কিন্তু সময় কি তাদের মনে রেখেছে? যুদ্ধ দিনে যারাই ছিলেন স্বজন, আজ তারাই যেন কুজন। বীরদের কীর্তি ভুলতে বসেছে প্রজন্ম। পুরনো শকুন এখনো লাশের সারি খোঁজে। আর সব হারানোর দল খোঁজে স্বপ্নের মাতৃভূমি।







