বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় গ্যাস থাকবে না, বুধবার মাইকে এ ঘোষণা দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তাই সকাল ও দুপুরের বেলা কোনোরকমে পার করে রাত ৮টা বাজার অপেক্ষায় প্রহর গোনা শুরু ওই এলাকার গৃহিনীদের। অপেক্ষার প্রহর আর ফুরায় না। রাত পৌঁনে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা অবধি গ্যাস আসেনি; চুলাও জ্বলেনি।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এমন কাণ্ডে ক্ষুধার যন্ত্রনায় নাকাল এলাকাবাসী রাত ১০টা পর্যন্ত গ্যাসের জন্য অপেক্ষার পর খাবারের সন্ধানে বাইরে বের হতে শুরু করেন। এর ফলে হোটেল-রেস্তোঁরার সামনে বাড়তে থাকে ভিড়। ৩০ মিনিটের মধ্যে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে হোটেলগুলোর সামনের ফুটপাত।
এসময় মিরপুর ২ নম্বর থেকে প্রশিকা মোড় পর্যন্ত খাবারের দোকানের সামনে ছিল ক্ষুধার্ত মানুষের উপচেপড়া ভিড়। হোটেল কর্তৃপক্ষ অন্য স্থান থেকে খাবার রান্না করে এনে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এভাবে চাহিদা পূরণ করা গেছে সামান্যই।
খাবার তৈরি হয়ে আসছে ‘কাশমিরী বিরিয়ানি হাউস’ কৃর্তৃপক্ষ এমন ঘোষণা দিলে ক্ষুধার্ত মানুষ লাইন ধরতে শুরু করেন। গভীর রাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কা-ধাক্কি করে সন্তানদের জন্য খাবার নিতে দেখা যায় অনেক মহিলাকে। তবে শেষ পর্যন্ত খাবার না পেয়ে বেশীরভাগ মানুষ অবশ্য বাসায় ফিরছেন দোকান থেকে রুটি, কলা আর বিস্কুট নিয়ে।
খাবারের জন্য হাহাকার দেখে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সব ফাস্টফুড গভীর রাত পযন্ত খোলা ছিল। সিলিন্ডারে রান্না করা চিকেন ফ্রাই, নুডুলস, বার্গার খেয়ে বাসায় ফিরেছেন অনেক তরুণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেট্রোরেলের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায়ই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে এ এলাকায়। ফলে এভাবেই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে।
জাফর নামের এক তরুণ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এভাবে আর কত ভোগান্তির শিকার হতে হবে আমাদের? এই বিষয়গুলো দেখার এবং এ বিষয়ে বলার কেউ নেই। কেন এমন হচ্ছে সেটাও আমরা জানতে পারি না। গ্যাসের জন্য শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। একবারও তারা কথা রাখতে পারে না। সকাল-দুপুর বাইরে হালকা নাস্তা খেয়ে কাটিয়েছি, ভেবেছিলাম রাতে বাসায় ভাত খাব। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টার সময়ও আমাদেরকে দাঁড়িয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।’
তার অভিযোগের সুরে বুঝা যায় এমন অভিজ্ঞতা মিরপুরবাসীর জন্য নতুন নয়। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রায় ঘটছে এমন ঘটনা। গত তিন মাসে পাঁচবার এমন বিপাকে পড়তে হয়েছে সর্বস্তরের মানুষের।
আগেরবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলেছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে গ্যাস লাইন সরানো হচ্ছে। লাইন সরানোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় তিতাস লাইনে গ্যাস সরবরাহ করেনি। তবে এবারও কেন তাদের ঘোষিত সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি, এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি: সাজ্জাদ খান








