গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ফলে সিংহভাগ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা মনে করছেন, আয় বাড়েনি কিন্ত আগামী মাস থেকে যে বেশী টাকা দিতে হবে, তা কীভাবে আসবে। অন্যদিকে বাড়িওয়ালারাও বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে ‘ব্যালেন্স’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা আরিফুর রহমান পরাগ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সরকারের এই সময়ে বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, মানুষের আয় বাড়ানোর যে কথা বলা হয়েছে তা এক প্রকার ফালতু কথা। কারণ সরকারি চাকুরিজীবীদের আয় বেড়েছে, আমাদের না। সবাই তো আর সরকারি চাকরি না।
সরকারের গ্যাস বিদ্যুৎতের দাম বাড়ানোর ফলে বাড়ির মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত করেছেন। মিরপুরের বাড়ির মালিক আদিব খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যেহেতু বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম বেড়েছে সেহেতু আমাদেরও তো ব্যালেন্স করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভাড়াতো একটু বাড়তেই পারে।
নাখাল পাড়ার ব্যবসায়ী আ. মোতেলেব বলেন, এ সবের দাম বাড়ার ফলে আমাদের একদিকে যেমন বিদ্যুৎ গ্যাসের জন্য বাড়তি টাকা দিতে হবে, অপর পক্ষে বাড়ি ভাড়া, যাতায়াতের জন্য বেশি খরচ হয়ে যাবে। তবে কাল একটা কথা শুনেছি, ‘মানুষের যে আয় বেড়েছে’ তা ঠিক, কিন্ত যে আয় করছে সে আয় তো খরচের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ ব্যয়ও বেড়েছে অনেক বেশি। মাস শেষে কোনো টাকা সঞ্চয় করতে পারি না।
গ্যাসের দাম বাড়ার ঘোষণা দেওয়ার শুরুতেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গ্যাস ষ্টেশনগুলোতে। মহাখালীতে সিএনজিচালিত অটো চালক মাসুদ বলেন, দাম বেড়েছে শুনেছি, কিন্ত যে গ্যাস প্রতিদিন ১৪০ টাকায় ভরতাম তা আজ ১৬০ টাকায় ভরতে হলো।
দাম বাড়ানোর পর এক চুলার গ্যাসের জন্য ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা গুনতে হবে গ্রাহককে। গ্যাসের দাম ২৬.২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ২.৯৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী এবং সেচের কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম বাড়বে না।
১ সেপ্টেম্বর থেকে এই দাম বৃদ্ধি কার্যকর হবে।






