ওয়াইফ কিংবা গার্লফ্রেন্ড। এককথায় ওয়াগ। লম্বা সিরিজে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কেবল খেলোয়াড়ি সরঞ্জামই থাকে না, সুখে-দুঃখে সঙ্গ দিতে কখনো কখনো সঙ্গী হন স্ত্রী কিংবা প্রেমিকারাও। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজে পুরো সিরিজ জুড়েই যেমন ওয়াগদের পাশে পাবেন চার অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
প্রায় দেড় মাস জুড়ে হবে পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ মহারণ। ২৩ নভেম্বর ব্রিসবেনের গ্যাবায় শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ জানুয়ারি সিডনিতে। লম্বা সময়ের জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুত হয়েছেন রেবেকা মার্শ, ড্যানিয়েলা উইলিস, র্যাচেল ম্যাকলিলান ও মেলিসা লায়ন। সঙ্গে আছে তাদের বাচ্চা-কাচ্চারাও!
অজি অলরাউন্ডার শন মার্শের স্ত্রী রেবেকা মার্শ। স্বামী হঠাৎ করে দলে ডাক পাওয়ায় বেশ উত্তেজিত রেবেকা। পূর্বপরিকল্পিত ভ্রমণের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে কোমর বেধেছেন স্বামীকে অ্যাশেজে ভাল করার মন্ত্রণা দিতে। কোলের ছেলে অস্টিনকে নিয়ে পুরো সফরেই শনকে সঙ্গ দেবেন রেবেকা।
‘আমার মাথায়ও ছিল না আমাকে এভাবে তাড়াহুড়ো করে ব্যাগেজ গোছাতে হবে। ও(শন মার্শ) হঠাৎ করে দলে ডাক পাওয়ায় আমাদের অনেক পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছে। কিন্তু এটাই ক্রিকেট। মেনে না নেওয়া ছাড়া উপায় কী?’
রেবেকার মত খুব একটা স্বস্তিতে নেই মেলিসা লায়ন। অজি স্পিনার নাথান লায়নের পরিবারে আছে ছোট ছোট ছেলে মেয়েও। বাচ্চা সামলিয়ে স্বামীকে যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত করাও মেলিসার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ওয়াগদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে উবারইট সার্ভিসও। যখন তখন খাবার অর্ডার করার জন্য এমন সার্ভিসেই ভরসা অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের বাগদত্তা ড্যানিয়েলা উইলিসের। অগোছালো প্রেমিককে পুরো সিরিজের জন্য গুছিয়ে রাখাই অবশ্য আসল কাজ ড্যানিয়েলার।

‘আমাকেই ওর(স্মিথ) জামা-কাপড় ধুয়ে রাখতে হয়। আর ওর ভুলে যাওয়ার অভ্যাস আছে। কাজের সময় যেন সবকিছু হাতের কাছে পায়, সেসব ঠিক করে রাখতে হয় আমাকে।’
আগামী এপ্রিলে র্যাচেল ম্যাকলিলানের সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসার কথা অজি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান উসমান খাজার। কিন্তু অ্যাশেজের সময় প্রেমিককে বিয়ের কথা তুলে বিরক্ত করার পক্ষে নন র্যাচেল, ‘আমরা অ্যাশেজের আগেই বিয়ের প্রস্তুতি সারতে চেয়েছিলাম। সফরে আমি ওকে বিয়ে নিয়ে বিরক্ত করতে চাই না।’
শুধু এই চারজনই নন। স্বামী কিংবা প্রেমিককে যথাযথ সঙ্গ দিতে তৈরি হচ্ছেন অন্য ক্রিকেটারদের স্ত্রীরাও। ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের লটবহরের সঙ্গে এসেছে ইংলিশ ওয়াগরাও। মাঠের লড়াই ছাড়াও গ্যালারিতে বসে দুই দলের লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব বর্তেছে ওয়াগদের কাঁধেই। সঙ্গে দুদলের মারকাটারি সমর্থকগোষ্ঠী তো আছেই!








